জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, সিলেট জেলা আমীর ও সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেছেন, সিলেট আধ্যাত্মিক রাজধানী। সদর উপজেলা হচ্ছে জেলার প্রধান উপজেলা। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই উপজেলার মানুষ আজও অবহেলিত। আমি দীর্ঘ সময় আপনাদের পাশে থেকে এই জনপদের দুঃখ-দুর্দশা খুব কাছ থেকে দেখেছি। বর্ষা এলেই উপজেলার অনেক নিচু এলাকা তলিয়ে যায়। সুরমা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামতে পারে না, ফলে কৃষকদের ফসল নষ্ট হয় এবং বাড়িঘরে পানি ওঠে। আমি নির্বাচিত হলে এবং জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুরমা নদী খনন (ড্রেজিং) ও পানি নিষ্কাশনের জন্য টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করব। জামায়াত হচ্ছে একটি আদর্শিক ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। যদি আমাকে আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেন, তবে আমার মূল লক্ষ্য হবে— এই এলাকাকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তর করা।
তিনি রোববার বিকেলে সিলেট সদর উপজেলার শিবেরবাজারে দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে গণসংযোগ চলাকালে উপরোক্ত কথা বলেন। গণসংযাগ শেষে সেখানে একটি প্রচার মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ১১ দলীয় জোটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও এলাকার স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
পথসভায় মাওলানা হাবিবুর রহমান আরো বলেন, আমাদের সদরের হাজার হাজার তরুণ আজ বেকার। শুধু বিদেশের ওপর নির্ভর না করে আমাদের ছেলেদের দক্ষ করে তুলতে হবে। আমি চাই এই উপজেলায় অন্তত একটি আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করতে, যাতে আমাদের সন্তানরা হাতের কাজ শিখে দেশেই স্বাবলম্বী হতে পারে এবং দক্ষ হয়ে বিদেশে গিয়ে বেশি আয় করতে পারে। আমরা স্লোগান আর ফাঁকা বুলিতে বিশ্বাসী নই। জামায়াত কোনোকিছু পাওয়ার জন্য নয়, আল্লাহকে খুশি করার জন্য মানুষের কল্যাণে কাজ করে। আমি কথা দিচ্ছি, আপনাদের ট্যাক্সের একটি টাকাও অপচয় বা লুট হতে দেব না। আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় আপনাদের একটি ভোট হবে এই অবহেলার বিরুদ্ধে এক একটি প্রতিবাদ। আসুন, আমরা পরিবর্তনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হই।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এডভোকেট জামিল আহমদ রাজু, সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জৈন উদ্দিন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর নাজির উদ্দিন, সেক্রেটারি আল ইমরান, হাটখোলা ইউনিয়ন আমীর হেলাল উদ্দিন, ইউনিয়ন নির্বাচন কমিটির আহবায়ক দিলোয়ার হোসেন, যুগ্ম আহবায়ক এটিএম সেলিম, জসীম উদ্দিন, সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম মানিক, হাটখোলা ইউনিয়ন আমীর হেলাল উদ্দিন, সেক্রেটারি মাহফুজ আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা আমীর উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের ইউনিয়ন সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সহ-সভাপতি মাওলানা মোস্তাক আহমদ জালালাবাদী, যুব মজলিসের সদর উপজেলা সভাপতি হাফিজ মুক্তাবিস উন্নুর, জালালাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ইস্কন্দর আলী, মাওলানা হাবিবুর রহমান বাদশা ও এডভোকেট রোকন উদ্দিন প্রমুখ।