সিলেট প্রেসক্লাবে প্রবাসীদের মিলনমেলা



সিলেট প্রেসক্লাবে এনআরবি হেল্প ডেস্ক স্থাপন এবং প্রবাসে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মকে দেশমুখী করতে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রবাসীরা। তারা সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত করতে সিলেট প্রেসক্লাব ও লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের(এলবিপিসি) মধ্যে টুইনিং লিংক স্থাপনের ওপর জোর দেন।
শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবের আমিনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রবাসীরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। সিলেট প্রেসক্লাবে এনআরবি(নন রেসিডেন্টস বাংলাদেশী) হেল্প ডেস্ক স্থাপন ও প্রবাসে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মের সফল ও শীর্ষ মেধাবীদের সাথে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে প্রবাসী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সাথে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় প্রবাসীদের মিলনমেলায়। বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের (বিসিএ) সাবেক সভাপতি পাশা খন্দকার এমবিই, লন্ডন বাংলা-প্রেসক্লাব ও বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মহিব চৌধুরী, যুক্তরাজ্যের ব্রেন্ট কাউন্সিলের কাউন্সিলর পারভেজ আহমদ, গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি মো: মুহিবুর রহমান, সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক মো: শামসুল আলম লিটনসহ এতে অর্ধশতাধিক প্রবাসী অংশ নেন। সূচনা বক্তব্য রাখেন-দৈনিক সিলেটের ডাক-এর অতিথি সম্পাদক ও লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বিসিএ’র সাবেক সভাপতি পাশা খন্দকার বলেন, বিলেতে বাংলাদেশী তথা সিলেটী অভিবাসীদের অনেক বড় বড় অবদান রয়েছে। সবচাইতে বড় অর্জন হচ্ছে আমরা ধর্মকে ধরে রাখতে পেরেছি। সিলেট প্রেসক্লাবে এনআরবি হেল্প ডেস্ক স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে এক্ষেত্রে এলবিপিসি’র সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে গবেষণা সেলও করার পরামর্শ তাঁর। প্রেসক্লাবের এ উদ্যোগকে মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মহিব চৌধুরী বলেন, বিলেতে গড়ে উঠা নতুন প্রজন্মকে সম্মান ও ভালোবাসা দিয়ে দেশের প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে। সিলেটে একটি উন্নতমানের বৃটিশ স্ট্যান্ডার্ড স্কুল স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এসে যাতে হতাশ হয়ে ফিরে না যায়-সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
ব্রেন্ট কাউন্সিলের কাউন্সিলর পারভেজ আহমদ বলেন, সবক্ষেত্রে যেমন সমস্যা আছে ; তেমনি সমাধানও আছে। মিডিয়ায় নেগেটিভ সংবাদ প্রচারের কারণে বিদেশে গড়ে উঠা নতুন প্রজন্ম দেশবিমুখ হয়ে পড়ে। এই চর্চা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। নতুন প্রজন্মকে দেশমুখী করার উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।
গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো: মুহিবুর রহমান বলেন, ৪০টি দেশে তাদের সংগঠনের শাখা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রবাসীদের সমস্যা বিশ্বব্যাপী। সিলেট প্রেসক্লাবে হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হলে তারা সেই সুযোগকে কাজে লাগাবেন।
অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন- বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক সাংবাদিক মিজানুর রহমান মিজান, সিলেট সদর ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক মো: নাজমুল ইসলাম, জিএসসি’র সাবেক সহ-সভাপতি ইছবাহ উদ্দিন, জগন্নাথপুর বৃটিশ-বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মুজিব, ম্যাক আলী হোটেল গ্রুপের চেয়ারম্যান মোবারক আলী, জেএমজি কার্গো লিমিটেড-এর মো: মনির আহমদ, পলাশ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শেখ ফারুক আহমদ, প্রিন্সিপাল আতিকুর রহমান, লুটন প্রবাসী গোলাম জাকির চৌধুরী, এনআরবি সোসাইটি ইউকে’র পরিচালক জুনেদ আহমদ, রাজা লিমিটেড-এর আমিুনর রহমান, সংস্কৃতিকর্মী ফয়সল আহমদ, আবুল কালাম ছোটন, মঈনুল আমিন বুলবুল, মতলিব চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজাম উদ্দিন নাজমুল ও সাংবাদিক আব্দুল কাদের তাপাদর।
সিলেট প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ হান্নান, কোষাধ্যক্ষ ফয়সাল আমীন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক শেখ আশরাফুল আলম নাসির, কার্যনির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন ও আব্দুল আউয়াল চৌধুরী শিপার প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে মুকতাবিস উন নূর বলেন, নতুন কমিটি সিলেট প্রেসক্লাবে একটি এনআরবি হেল্প ডেস্ক ও নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশমুখী করতে কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করতে আগ্রহী। সবার সমর্থন ও সহযোগিতা পেলে এ উদ্যোগকে আরো এগিয়ে নেয়া সহজতর হবে। তিনি এও বলেন, আমরা প্রবাসীদের সামষ্টিক সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। সিলেটের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজিতে যে দুর্বলতা রয়েছে-সেই দুর্বলতা কাটানো গেলে সিলেট শিক্ষাক্ষেত্রে আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এই উদ্যোগে আমরা প্রবাসীদের পাশে পেতে চাই।

শেয়ার করুন