তরুণদের কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তি বিপ্লব
করতে চায় বিএনপি: খন্দকার মুক্তাদির

* ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়তে কাজ করবে বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, এখন সময় তথ্যপ্রযুক্তির। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে কাজে লাগিয়ে তরুণরা দুনিয়া বদলে দিচ্ছে। এই সময়ে আমাদেরকে পিছিয়ে থাকলে চলবে না। সিলেটে বিপুল সংখ্যক তরুণ, যুবক রয়েছে, যাদের উদ্যম আছে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কিছু করার চিন্তা আছে। কিন্তু সীমিত সুযোগ, গাইডলাইনের অভাব ও পরিকল্পনাহীনতায় এই উদ্যম কাজে লাগছে না। ইনশা আল্লাহ, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সিলেটসহ সারাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে ঢেলে সাজাবে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে কিভাবে দেশ ও জাতির কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিএনপি সরকার কাজ করবে। প্রযুক্তি খাতে যাতে লাখো তরুণের কর্মসংস্থান হয়, সেই পরিকল্পনাও আমাদের আছে। বস্তুত প্রযুক্তি বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে চায় বিএনপি।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় নগরীর শাহপরানের বাহুবলে উঠান বৈঠকে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, সিলেটে আইটি পার্ক করার নামে একটা ভুতুড়ে স্থাপনা করা হয়েছে। বিএনপি এই আইটি পার্ককে সিলেটের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের মূলকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। যেখানে আইটি ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠবে, হাজারো তরুণের চাকরি হবে, হাজারো তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠবে।
মরহুম আফতাব আলী খান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাইফুর রহমান খান হারুনের সভাপতিত্বে ও ৩৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাছুম আহমদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সিভিক্স ভয়েজ’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পাশা খন্দকার এমবিই, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, সাবেক ছাত্রনেতা তোফায়েল বাসিত তপু, বাহুবল গ্রীণ ল্যান্ড জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোস্তাফা মেহেদী হাসান খান প্রমুখ। দোয়া পরিচালনা করেন মুফতি মিজানুর রহমান।
ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়তে কাজ করবে বিএনপি:
সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের দোহাই দিয়ে চাঁদাবাজি করার কোনো সুযোগ সিলেটে দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজদের জন্য সিলেটের মাটিতে কোনো জায়গা হবে না। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি হলরুমে চট্টগ্রাম সমিতি সিলেটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বিএনপির সরকার সবসময় ব্যবসাবান্ধব ছিল এবং ব্যবসায়ীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। বিএনপির শাসনামলে দেশে টেকসই উন্নয়ন হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, সিলেটে এমন ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তোলা হবে, যাতে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। একটি শিল্প কলকারখানাকে ঘিরে আশপাশে আরও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। প্রবাসীদের বিনিয়োগ সিলেটে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সিলেটকে শাকসবজি রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, সিলেট থেকে রপ্তানিযোগ্য পণ্য সহজে চট্টগ্রামে নেওয়ার জন্য ট্রেন সার্ভিস চালুর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সিলেট–চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে বলেও জানান তিনি। খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বিএনপির সরকার হবে বিনিয়োগবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব। ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও বিএনপি সরকার নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্য দেশপ্রেমিক ও মেধাবী নেতৃত্ব প্রয়োজন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ সঠিক নেতৃত্ব বেছে নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। চট্টগ্রাম সমিতি সিলেটের কার্যকরী কমিটির সদস্য সাইফউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিশ্বনাথ ঘোষ বিসুর পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর কৃষকদলের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির শাহীন, বিমানবন্দর থানা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাদির সমছু, চট্টগ্রাম সমিতি সিলেটের আজীবন সদস্য খন্দকার জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম সমিতি সিলেটের সহ-সাধারণ সম্পাদক হাফেজ সালাউদ্দিন কামাল, বৌদ্ধ সমিতি সিলেটের সভাপতি চন্দ্রশেখর বড়ুয়া ও উপদেষ্টা বাবু পিপলু বড়ুয়া প্রমুখ।
উঠান বৈঠকে বিশাল জনসভায় পরিণত:
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ৯টায় সিলেট নগরীর বাগবাড়ি বর্ণমালা পয়েন্টের একটি মাঠে উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তবে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে উঠান বৈঠকটি বিশাল জনসভায় পরিণত হয়।
ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আমির হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রুবেল বক্সের পরিচালনায় উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েছ লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, সাবেক কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামিম প্রমুখ।
পীর মহল্লায় উঠান বৈঠক:
এদিকে, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় নগরীর পীর মহল্লায় উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এখানে তিনি বলেন, আগামীর রাজনীতি হচ্ছে চাঁদাবাজমুক্ত রাজনীতি। সিলেটে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কোনো চাঁদাবাজ থাকবে না। চাঁদাবাজি নির্মুল করা হবে। কেউ চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দিলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে দলমত দেখা হবে না। বিএনপি নেতা আব্দুল ওয়াদুদ মিলনের সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি নেতৃবৃন্দরা। এতে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় জনতা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন