ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, এই গণভোটের পক্ষে ইতিমধ্যে সকল ছাত্ররা অবস্থান নিয়ে নিয়েছে, সকল নাগরিকরা অবস্থান নিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু, আমরা দেখতে পাচ্ছি একটি দল না-য়ের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। এই না মানে হচ্ছে ভারতের দালালী করা, না মানে হচ্ছে দিল্লীর যারা দালালরা আছে, তাদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। এই না মানে হচ্ছে আবার পিলখানা হত্যাকাণ্ড স্বাধীন বাংলাদেশে বন্দোবস্ত করা। এই না মানে হচ্ছে বিচারিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আবার জাতীয় নেতৃবৃন্দকে শহীদ করা, হত্যা করার পরিকল্পনা করা। এই না মানে হচ্ছে বিগত সরকারের আমলে যে ৩ টি নির্বাচন হয়েছিল, তার মতো আবার নির্বাচন করার বন্দোবস্ত করা, এই না মানে হলো আবার আয়নাঘর তৈরি করা, এই না মানে হলো আমাদের ইলিয়াস আলী থেকে শুরু করে ব্যারিস্টার আরমান সাহেবকে যে গুম করা হয়েছে, সেই গুমের সংস্কৃতিকে আবার ফিরিয়ে আনা। সুতরাং এই জুলায়ের প্রজন্ম বেঁচে থাকতে এই না-য়ের পক্ষে যারা দালালী করছে, তাদের স্থান হতে আমরা দিবো না। এই হ্যাঁ মানে হলো আজাদী, হ্যাঁ মানে শহীদ ওসমান হাদী হত্যার বিচার। হ্যাঁ মানে হলো বাংলাদেশে গত ৫৪ বছরে যে পরিবারতন্ত্র তৈরি হয়েছে, সেই পরিবারতন্ত্রকে ভেঙ্গে চুরমার করে দেওয়া। আর এই হ্যাঁ মানে হলো জনগণের ক্ষমতা তাদের হাতে তুলে দেওয়া।
বৃহস্পতিবার সিলেটের চৌহাট্টায় ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদের উদ্যোগে আয়োজিত হ্যাঁ এর পক্ষে গণজমায়েতে সভাপতির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের আজ কষ্ট লাগে, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যারা আমাদের সাথে ছিল, তারা আজ ইনিয়ে-বিনিয়ে না এর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। আমাদের সম্মানিত তারেক রহমান বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য দিচ্ছেন বারবার এবং বিভিন্নধরনের নাটক করছে মঞ্চের মধ্যে। সেই নাটকের মঞ্চের মধ্যে আমরা একটিবারের মতো হ্যাঁ এর স্লোগান দেখতে পাই না, আমরা কোনো হ্যাঁ এর ডায়লগ দেখতে পাই না। তাহলে কি আমরা ধরে নিবো আপনি না এর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। না মানে হাসিনা, না মানে মোদী, না মানে হলো হাসিনার ফ্যাসিবাদী কাঠামো রাষ্ট্রের মধ্যে রেখে দেওয়া। আপনারা কি সেই হাসিনা হতে চান, তাহলে বলে দিন। হাসিনাকে যেভাবে আমরা দেশ থেকে বের করেছি, ঠিক সেইভাবে আমরা আপনাদের সাথে করবো। সুতরাং আপনারা অবস্থান পরিষ্কার করেন এখনো সময় আছে। আমরা আশা করবো আপনারা আপনাদের অবস্থান পরিষ্কার করবেন।
জাকসু জিএস মো. মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় গণজমায়েতে বক্তব্য রাখেন- জকসু ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবিব, জাকসু এজিএস ফেরদৌস আল হাসান, রাকসু এজিএস এস এম সালমান সাব্বির, জকসু এজিএস মাসুদ রানা, ডাকসুর ছাত্রপরিবহণ সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সদস্য শাহিনুর রহমান, জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক হুসনি মুবারক, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি, সদস্য তারিকুল ইসলাম, জকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. নূর নবী।
সাদিক কায়েম বলেন, আমরা আজকে যে বিএনপি দেখছি, সেই বিএনপি বেগম জিয়া, শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে না। বাংলাদেশপন্থী যে রাজনীতি, সেই রাজনীতিকে তারা আর ধারণ করছে না। তারা ফ্যাসিবাদী যেই কাঠামো, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসের রাজনীতি আমরা দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং আমরা বিএনপির প্রতি অনুরোধ করবো আপনারা সংশোধন হন, জুলাইকে ধারণ করেন, জুলাইয়ের শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেন, জুলাইয়ের পক্ষে আপনাদের ক্যাম্পেইন শুরু করেন। বিএনপি অনেক বড় দল ছিল। কিন্তু, তাদের ভুল পলিসির কারণে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস এবং দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির কারণে বিএনপি একদম ছোট দল হয়ে গেছে। আপনারা যদি আগের অবস্থায় যেতে চান, তাহলে এখনো সময় আছে আপনারা হ্যাঁ-এর পক্ষে আসেন, তরুণ প্রজন্মকে ধারণ করেন, জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করেন।
ডাকসু ভিপি বলেন, আমরা বিগত এক সপ্তাহ থেকে দেখে আসছি বিএনপির সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশের ৫০শের ও অধিক জায়গায় আমাদের মা-বোনদের ওপর হামলা করেছে। ওই বিএনপির সন্ত্রাসীরা তদেরকে সতর্ক করছি, কাপুরুষের মতো আমার মা-বোনদের ওপর হামরা করবি না। আর যদি তোরা হামলা করতে আসিস, তদের হাত ভেঙ্গে ফেলা হবে। তরা যদি আবার আমাদের মা-বোনদের ওপর হামলা করিস, তাহলে লন্ডনেও পালানোর সুযোগ পাবি না। এখনো সময় আছে বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি কর, ভারতপন্থী রাজনীতি করিস না।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন- শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ.এম সরওয়ার উদ্দিন, অধ্যাপক মেডিসিন বিভাগ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. ইকবাল আহমদ, শাবি ট্রেজারার প্রফেসর মো. ইসমাইল হোসেন, সিলেট-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূর, কুদরতউল্লাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব সাইয়্যিদ নুরুজ্জামান মাদানী।