সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট চালু রাখার দাবিতে ‘মার্চ ফর বিমান’ কর্মসূচি


সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট চালু রাখার দাবিতে সিলেটে ‘মার্চ ফর বিমান’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১ টা থেকে নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিমান অফিস অভিমুখে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। রোববার (২৫ শে জানুয়ারি) নগরের একটি রেস্টুরেন্টের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইউকে এনআরবি সোসাইটি ও নর্থ ইউকে বাংলাদেশি হেরিটেজ কাউন্সিলর’স ফোরাম’র নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন ইউকে এনআরবি’র সোসাইটির ডিরেক্টর এম জুনেদ আহমদ। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন- সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনীতিক নজরুল ইসলাম বাসন, ইউকে এনআরবি’র সোসাইটির ডিরেক্টর মিজানুর রহমান ও ওল্ডহাম বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জামাল উদ্দিন, ইউকে এনআরবি সোসাইটি সিলেটের সমন্বয়ক সাংবাদিক ওয়েছ খছরু, ওল্ডহামের ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব কামাল রব, কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হক, বৃটিশ-বাংলাদেশি প্রথম মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী আখি রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী দুই সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন- ২০২০ সালে যখন ফ্লাইট চালু হয় তখন বিমানের প্রচারণার অভাবে বিজনেস ক্লাসে যাত্রী কম ছিলো। কিন্তু গত হজ মৌসুমের পরবর্তী সময় থেকে বিজনেস ক্লাসে কোনো সিট খালি থাকেনি। সিলেট থেকে প্রতি সপ্তাহে রোববার ও মঙ্গলবার সিলেট থেকে ম্যানচেস্টা রুটে চলাচল করে। যুক্তরাজ্যের নর্থ ইংল্যাণ্ডে বসবাসরত ৭-৮ লাখ প্রবাসীর যাতায়াত সুবিধার কথা বিবেচনা করে বিমান কর্তৃপক্ষ এ রুটটি চালু করে। এখন ওই অঞ্চলের প্রবাসীরা ১২-১৩ ঘন্টার মধ্যে সিলেট এসে পৌছতে পারেন। যদি এ রুটটি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে প্রবাসীদের আসতে সময় লাগবে ২২ থেকে ২৪ ঘন্টা। কারন- তারা সড়ক পথে ৪ থেকে ৬ ঘন্টার জার্নি করে হিথ্রো হয়ে ঢাকা কিংবা সিলেট আসতে হবে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হবেন সিনিয়র সিটিজেন, নারী ও শিশুরা। অতিরিক্ত ভোগান্তিতে পড়বেন সব বয়সী মানুষ। জার্নির বিরক্তির কারণে অনেকেই দেশে আসতে ভয় পান।
জুনেদ জানান- গত ২২ শে জানুয়ারি বাংলাদেশ বিমান কতৃপক্ষ ম্যানচেস্টার ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িক স্থগিত প্রসঙ্গে যে বক্তব্য প্রদান করেছে সেটি দেখে আমরা বিস্মিত, মর্মাহত ক্ষুব্ধও। এমন মিথ্যাচার রাষ্ট্রীয় একটি সংস্থা করতে পারে সেটি আমরা কল্পনা করতে পারছি না। বিমান কর্তৃপক্ষ বলেছে; সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটিতে লোকসান হচ্ছে। আমাদের প্রশ্ন হলো- যে রুটে বিমান কর্তৃপক্ষ ৮৩ পার্সেন্ট ব্যবসা করে সেই রুটটি কীভাবে লোকসান হয়। বেশির ভাগ যাত্রী ৭০০ থেকে ৮০০ পাউন্ডের টিকিট ১২০০ থেকে ১৫০০ পাউন্ডে ক্রয় করেন। বিমানের একটি অসাধু চক্র এই টাকা লোপাট করে প্রতিমূহূর্তেই ফ্লাইটটিকে লোকসান দেখানোর পায়তারা করছে। আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলছি; সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটি অলাভজনক নয়। বরং যাত্রী সংখ্যা এতো বেশি যে- গেলো কয়েক মাস ধরে ওই ফ্লাইটের টিকিট মিলে না। লাখ লাখ পাউন্ডে ব্যবসা করা বিমান কর্তৃপক্ষ সব সময় এই রুটে ফ্লাইট বন্ধের চেষ্টা চালিয়েছে, এখনো চালাচ্ছে। অথচ ইতালি, জাপান, কুয়েত, শারজাহ রুটে যাত্রী কেমন পায় সেটি আপনারা খোঁজ খবর নিলেই জানতে পারবে। তথ্য উপস্থাপন করে তিনি বলেন- বাংলাদেশ বিমান সিলেট ম্যানচেস্টার রুটে ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সিলেট থেকে ম্যানচেস্টার প্রায় ২০ হাজার যাত্রী ও ম্যানচেস্টার থেকে সিলেট প্রায় ১৮ হাজার যাত্রী বহন করে। এতে সর্বমোট ৩৮ হাজার যাওয়া-আসা করে। এই সময়ে বিমানের সিট ছিলো ৪৫ হাজার। এই পরিসংখ্যানে বুঝা যাচ্ছে সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট কখনোই অলাভজনক ও যাত্রী সঙ্কটে ছিলো না। সুতরাং বিমানের যুক্তি কোনো ভাবে গ্রহনযোগ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়; বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে- ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইউরোপ, হজ ও মধ্যপ্রাচ্য রুটে একই শ্রেণির সীমিতসংখ্যক ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ ব্যবহৃত হয়, ফলে ম্যানচেস্টারের মত দীর্ঘপথের রুটে একটি উড়োজাহাজ একাধিক দিন ব্যস্ত থাকায় বহর ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি বিমানের নিয়মিত সি-চেক, ইঞ্জিন ওভারহল এবং কাঠামোগত পরিদর্শনের সময় এক বা একাধিক বিমান সপ্তাহ বা মাসের জন্য অপারেশনের বাইরে চলে যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ কারণে উড়োজাহাজের সংকট দেখা দেয়।’ তাদের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে; লাভজনক হওয়া ম্যানচেস্টার রুট বন্ধ করে বিমানের কেনো এতো টালবাহানা। তারা ম্যানচেস্টার রুট চালু রাখতে অলাভজনক রুটে বিমান চলাচল সীমিত রাখতে পারে। কিন্তু তা না করে তারা ম্যানচেস্টার রুটই বন্ধ করতে হবে। তাদের এই মনোভাব কেনো? আমরা স্পষ্ট জানিয়ে রাখতেই চাই; বিমানের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা সিলেট বিদ্বেষী একটি অংশ বারবার সিলেটের সব রুটের বিমানকে নিয়ে টালবাহানা করছে। তাদের চক্ষুশূল হচ্ছে সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট। ইতিমধ্যে সিলেট বিদ্বেষী ওই সব ষড়যন্ত্রকারী ও চক্রান্তকারীদের চিহিৃত করতে পেরেছি। প্রয়োজনে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামবো।

শেয়ার করুন