শাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (শাকসু) নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক জরিকৃত প্রজ্ঞাপনকে ‘তামাশা’ বলে আখ্যায়িত করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) সাস্ট চ্যাপ্টার।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। সেখানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন কীভাবে জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এভাবে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার হরণ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এই হস্তক্ষেপ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতায় সরাসরি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কোনভাবেই মানা যায়না বলে মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সোশ্যাল সাইন্স বিল্ডিংয়ে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) সাস্ট চ্যাপ্টার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এই মন্তব্য করেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউটিএল’র আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি-শাকসু নির্বাচন আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ইতোমধ্যে পাঁচ বা ততোধিকবার নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে শাবিপ্রবি প্রশাসন। এই নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রার্থীগণ মিলিয়ে কোটি টাকার অধিক অর্থ ব্যয় করেছে এবং অজস্র সময় ও শ্রম বিনিয়োগ করেছে। এমতাবস্থায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ভর্তি পরীক্ষার ঠিক আগের রাতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক একটি বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে শাকসু নির্বাচন বাতিল বা স্থগিত করায় শাবি পরিবারসহ সারা দেশের সচেতন মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন, বিজ্ঞপ্তির একাধিক স্থানে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের তারিখের অসঙ্গতি থেকে প্রতীয়মান হয় এটি তড়িঘড়ি করে প্রকাশ করা হয়েছে। যা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার প্রচেষ্টা। তারা জানান, আমাদের কাছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা একটি স্মারক এসেছে, যা মূলত ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত। কিন্তু সেই স্মারকটি শাবিপ্রবির ভিসির দপ্তরে এসেছে গতকাল মঙ্গলবার। এটি পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেন। এই দুরভিসন্ধিমূলক তৎপরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সেই সাথে শাকসুর মাধ্যমে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করতে পূর্ব নির্ধারিত ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত তারিখের মাধ্যমেই সম্পন্ন করার দাবি জানান।