ব্যারিস্টার নাজিরের প্রতিভা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে



ব্যারিস্টার নজির আহমদ তার নিজের প্রতিভা যুক্তরাজ্যের আদালতে কাজে লাগিয়েছেন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে তাঁর প্রতিভা বাংলাদেশের উন্নয়নেও কাজে লাগাতে হবে।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট প্রেসক্লাবের আমীনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে ব্রিটেনের উচ্চ আদালতের প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার ও বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার নজির আহমদের লিখিত দুটি গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। গ্রন্থ দুটি হচ্ছে-‘আইন, সংবিধান ও নাগরিক অধিকার’ এবং ‘একটি মানবিক বাংলাদেশের প্রত্যাশায়’।
সিলেট প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি মুকতাবিস উন নূরের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. ইসমাইল হোসেন পাটোয়ারী। মুখ্য আলোচক ছিলেন-শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট এন্ড বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের সাবেক ডিন ও বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোছাদ্দেক আহমদ চৌধুরী।
সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় গ্রন্থালোচনায় লেখক ব্যারিস্টার নাজির আহমদ ছাড়াও জিএসসি’র সাবেক সেক্রেটারি মির্জা আসহাব বেগ, জিএসসি সাউথ ইস্ট রিজিওনের সাবেক সভাপতি ইসবাহ উদ্দিন, লন্ডন মুসলিম সেন্টারের সাবেক এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর দেলোয়ার হোসেন খান, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য আব্দুল মুনিম ক্যারল, সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ হান্নান, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন, সাবেক সহ-সভাপতি ও নয়া দিগন্তের ব্যুরো প্রধান আবদুল কাদের তাপাদারপ্রমুখ। শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি বলেন, বিগত সরকার দেশের প্রতিটি সেক্টরকে ধ্বংস করেছে। তারা মানুষের অধিকারকে ভুলুণ্ঠিত করেছে। ছিল সুশাসনের অভাব। তিনি এও বলেন, স্বৈরশাসকের আমলে সংবিধানকে পার্সোনাল প্রপার্টি মনে করা হতো। কথিত ‘উপরের নির্দেশে’ মানুষের অধিকার ক্ষুণœ করা হতো। ব্যারিস্টার নাজিরের বইয়ে মানুষের অধিকার রক্ষার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। দেশের উন্নয়নে প্রবাসী বুদ্ধিজীবীদের কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যারিস্টার নাজিরের মতো লোকজনকে বাংলাদেশের সংসদের উচ্চ কক্ষে বসানো গেলে দেশ উপকৃত হবে।
মূল বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোছাদ্দেক চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়া ও সত্যিকারের মানবিক বাংলাদেশ গঠনে দুটি বই খুবই সহায়ক। বইয়ে লেখক সিলেট অঞ্চলে ঘন ঘন বন্যা, কওমী শিক্ষা ও প্রবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও আলোকপাত করেছেন।
মির্জা আসহাব বেগ বলেন, ব্যারিস্টার নাজির আহমদ একজন সফল ব্যক্তিত্ব। পড়ালেখা শেষ করে তিনি বিদেশে গিয়েও সফল হয়েছেন।
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ বলেন, তিনি দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে আইনের প্র্যাকটিস করছেন। এর বাইরে তিনি বাংলাদেশ নিয়ে লেখালেখি করেন। তিনি বলেন, প্রবাসে অবস্থান করলেও এই ভূÑখন্ডের প্রতি তাঁর কর্তব্যবোধ রয়েছে। যুক্তরাজ্যে লেখালেখির কারণে কোন সাংবাদিককে জেলে যেতে হয় না-উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এসব সিস্টেম বদলাতে হবে। তিনি বলেন, আমরা সত্যিকারের একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।
সিলেট প্রেসক্লাবের ৭ম বারের নির্বাচিত সভাপতি মুকতাবিস উন নূর সভাপতির বক্তব্যে ব্যারিস্টার নাজির আহমদের প্রতিভা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর তাগিদ দেন। বাংলাদেশের সংসদের উচ্চ কক্ষে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে ব্যারিস্টার নাজির আহমদের মতো লোককে উচ্চ কক্ষে বসাতে হবে।

শেয়ার করুন