লুসাই সম্প্রদায়ের ভূমি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা



সিলেট নগরের রিকাবীবাজারের পুলিশ লাইন্স এলাকার লুসাই খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ভূমিতে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা, দখলবাজদের বিতারণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ‘পুলিশ লাইন্স লুসাই গির্জা সমিতি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও লিজ গ্রহীতার সমন্বয়ে গঠিত ত্রি-পক্ষীয় সমঝোতা কমিটি। রোববার নগরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহবান জানান ত্রি-পক্ষীয় সমঝোতা কমিটির আহবায়ক তৌহিদুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জাল দলিলে সমিতি ও গির্জার জায়গা দখল কওে আলোচিত আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম সেখানে ইম্পালস টাওয়ার নির্মাণ করেন। গত ১৮ বছর ধরে এ নিয়ে আইনী লড়াই চলছে। একাধিক মামলার আসামী সিরাজুল ইসলাম ও তার সান্ত্রাসী বাহিনীর হাত থেকে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা এবং সমিতির ভূমির দখল পূনরুদ্ধার এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ লাইনে বসবাসরত লুসাই সম্প্রদায়ের প্রাথর্না ও মৃতদেহ কবস্থ করার জন্য পুলিশ লাইন গির্জা সমিতি গঠিত হয় ১৯৪৭ সালে। মিউনিসিপালিটি মৌজার ৯১ জে.এল এর অন্তর্গত ৪০০৮ এবং ৪০০৯ নং দাগের ১.৩৭০১ একর ভুমি সমিতির নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় বসতিসহ গির্জা ও কবরস্থান। আর তা রক্ষনাবেক্ষন ও সংস্কারের দায়িত্ব পালন করেন বৃটিশ পুলিশ বাহিনীর সুবেদার হারেঙ্গা লুসাই। ১৯৭০ সালে এ ভূমির রেকর্ডসরকারের নামে হওয়ায় আদালতে মামলা দায়ের হয় এবং ১৯ ৭৪ সালে মামলার রায়ে রেকর্ড সংশোধন করে। হারেঙ্গা লুসাইর মৃত্যুর পর তার ছেলে জামিংথাংগা লুসাই গির্জা সমিতির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। তিনি খালি জায়গা লিজ প্রদান করেন। পরবর্তীকালে যৌবেল লুসাই গির্জা সমিতির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়ে আরো বিভিন্ন ব্যক্তি বরাবর রেজির্স্টাড লিজ প্রদান করেন। এ ভূমিকে কেন্দ্র করে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতি কর্তৃক ২৭টি রেজির্স্টাড লীজ নামা, ১টি রেজিস্টার্ড বয়না নামা, ১টি সাফকবলা বেআইনী দলীল, ১টি নন রেজিস্টার্ড লীজ নামা সম্পাদিত এবং ১টি ত্রি-পক্ষীয় সমঝোতা চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, নগরীর সুরমা টাওয়ারের বাসিন্দা ও ফেঞ্চুগঞ্জের ঘিলাছড়া নিবাসী অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে এই ভূমিতে। তিনি জাল আমমোক্তার নামার মাধ্যমে তৎকালীন সাবরেজিস্ট্রার মুজিবুর রহমান পাঠোয়ারির সহযোগিতায় লীজকৃত ৮০ শতক ভূমি ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেড কোম্পানির নামে বেআইনী দলিল (নং–১৮৫২২/২০০৬) সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে গির্জা ধ্বংসের অভিযোগ জমিংথাংগা তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির ৮০ শতক ভূমির মধ্যে ৩৬ শতক ভূমিস্থ ইম্পালস টাওয়ারের সাকুল্য ২,৬০,০০০.০০ বর্গফুটের স্পেইস ১০৮ কোটি টাকা মূল্য নির্ধারনে ৭-১০ বছরে তা পরিশোধ সাপেক্ষে ব্রিটশ ইনঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তৌহিদুল ইসলামের সাথে একটি বিক্রয় চুক্তিপত্র সম্পাদন করেন ও দখল সমজাইয়া দেন। পরে সিরাজুল ইসলাম চুক্তিপত্র অস্বীকার করে প্রতারণা করলে তিনি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী সিরাজুল ইসলাম কারাভোগ করেছেন বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তৌহিদুল ইসলাম আরো জানান, সুষ্ঠ ও ন্যায় সংগত সমাধানের লক্ষ্যে ২০১৯ সালে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যাক্তিদের নিয়ে একটি ত্রি-পক্ষীয় সমঝোতা চুক্তিপত্র সম্পাদন করেছেন। যা পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির কার্যনিবাহী সভার ২৬ নং মিনিট (রেজুলেশন) ভুক্ত করা হয়। তিনি টাওয়ারের দখলে থেকে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি মোতাবেক লুসাই গির্জা সমিতির পক্ষে সকল প্রকারে আইনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলেও জানান। এতে সিরাজুল ইসলাম ক্ষুদ্ধ হয়ে তাকে হয়রানী করলে গত বছরের ১১ জুন মামলা দায়ের করলে মামলার আদেশ অনুযায়ী স্বত্ত ৭৩/২০২৩ নং মামলা ভিন্নতর আদেশ না হওয়া পর্যন্ত কোতোয়ালী থানার ওসিকে নালিশা এলাকায় শান্তিক্সশৃখলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এখন এই আদেশ অমান্য করে সিরাজুল ইসলাম গত ৩০ জানুয়ারি গির্জা সমতি ও ভূমি বেআইনীভাবে দখলের অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাজমুল ইসলাম, এম এ সাত্তার, প্রবাসী সেলিনা সুলতানা ও জামিংথাংগা।

শেয়ার করুন