সিলেট নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের পীরেরচক এলাকায় একটি পরিবারের পৈত্রিক জমি দখলের চেষ্টা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। দখলচেষ্টা প্রতিরোধে এগিয়ে আসা স্থানীয় মুরব্বি ও সালিশ ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
রোববার (৮ মার্চ) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন পীরেরচক গ্রামের আব্দুল মতিনের কন্যা লিমা বেগম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, হাজিরাই মৌজার ১৩৫৭ নম্বর দাগের প্রায় ৫৯ শতক জমি তার দাদা আব্দুল করিমের নামে রয়েছে। এর মধ্যে তার মা মিনা বেগমের কাবিননামায় ১৫ শতাংশ জমি দেওয়া হয়। জমির সব কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমি দখলভোগ করে আসছেন।
তার অভিযোগ, সম্প্রতি প্রতিবেশী মৃত মনু মিয়ার পুত্র আব্দুস সালাম ও ইমাম উদ্দিনসহ তাদের সহযোগীরা ওই জমিতে নিজেদের পাওনা দাবি তুলে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন। বিষয়টি স্থানীয় মুরব্বিদের জানানো হলে তারা কয়েক দফা সমাধানের চেষ্টা করলেও প্রতিপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত মানেনি।
লিমা বেগম বলেন, গত ৬ মার্চ রাত ১২টার পর আব্দুস সালাম ও ইমাম উদ্দিন শতাধিক বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে তাদের জমিতে গিয়ে দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় তারা জোরপূর্বক জমিতে মাটি ভরাটেরও চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে তার মা মিনা বেগম, তিনি নিজে এবং তার চাচা সফিকুর রহমান মারধরের শিকার হন।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
এ সময় এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. তাহির আলীসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি আপোষ-মীমাংসার প্রস্তাব দিলেও প্রতিপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে এবং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে বলে অভিযোগ করা হয়।
লিমা বেগম জানান, জমিটি নিয়ে বর্তমানে আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা (২৬/২৩, ২০২২) এবং একটি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। এরপরও আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষ দখলচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, দখলচেষ্টা ও হামলার ঘটনায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। বর্তমানে তিনি ও তার মা বাড়িতে বসবাস করছেন। তিনি এমসি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রতিপক্ষ তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন লিমা বেগম।