সিলেট-৬ আসনে নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান জামায়াত ও বিএনপি

সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিয়ানীবাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বিএনপি ও তালামীযের কর্মীদের দ্বারা জামায়াত নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা ও হুমকির অভিযোগ তুলেছেন। এব্যাপারে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে দাবী জানিয়েছেন বিএনপি থেকে নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিয়ানীবাজার উপজেলা জামায়াতের অফিসে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জামায়াত নেতাকর্মীদের উপর অন্তত ছয়টি হামলার অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, একটি দলের কিছু সংখ্যক অধৈর্য্যশীল কর্মীরা এ কান্ড ঘটিয়েছে, অনতিবিলম্বে প্রশাসন ও বিএনপির হাইকমান্ড শক্ত ব্যবস্থা না নিলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে।

তিনি আরও বলেন, বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ শান্তির এলাকা; রাজনৈতিক কারণে পরিবেশ অশান্ত না করে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি দলের অরাজকতার সুযোগে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও মাঠে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিলপাড়া ইউনিয়নের ইনাম এলাকায় নাইম ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তার মা ফরিদা বেগমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া শেওলা ইউনিয়নের দিগলবাক গ্রামে মোস্তফা উদ্দিনের বাড়ি এবং লাউতা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাহাড়িয়াবহর গ্রামে আইয়ুব ও শাহেদের বাড়িতে বিজয় মিছিল থেকে হামলার অভিযোগ তোলা হয়। এসব ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আমরা বৈষম্য চাই না। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তা বরদাশত করবো না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সেলিম উদ্দিন ভাইয়ের অভিযোগ শুনে প্রশাসনকে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তবে কাঁদাছোড়াছুড়ি বা রেষারেষির রাজনীতি না করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জকে এগিয়ে নিতে চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমরান চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, নদীভাঙন ও শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবেন। স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি সাংবাদিকদের জাতির বিবেক উল্লেখ করে বলেন, আমার ভুল হলে ধরিয়ে দেবেন, এলাকার সমস্যাগুলো তুলে ধরবেন, প্রয়োজনে পরামর্শ দেবেন, আমি আপনাদের মতামতকে গুরুত্ব দেব।

শেয়ার করুন