
ছাতক প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আজ ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে সাড়ে সাতটায়। এরই মধ্যে ২২৮, সুনামগঞ্জ–৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে মোট ১৭০ টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের প্রচার শেষ হলেও কৌশল নির্ধারণ ও ভোটারদের মন জয় করতে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছে দিনরাত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বি হবে বিএনপির ধানের শীষ ও জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। যদিও আসনে মোট পাঁচজন দলীয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তবে বাস্তবে সাধারণ ভোটারদের অভিমত নিয়ে জানাযায়, ভোটের সমীকরণে বিএনপির থেকে জামায়াত মাঠে এগিয়ে রয়েছে, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারে জামায়াত বিএনপির সমান -সমান প্রতিযোগিতা চলছে। তবে সামগ্রিক রাজনৈতিক শক্তিমত্তা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা থাকার কারনে জামায়াত সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বলেই মনে করছেন স্থানীয় পর্যায়ের পর্যবেক্ষকরা।
এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য। তার পক্ষে প্রচার প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন দলটির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী মিজানুর রহমান চৌধুরী। বিএনপির শীর্ষ নেতা কলিম উদ্দিন মিলনকে এবার অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন করে দিয়েছেন অধ্যক্ষ সালাম মাদানী।
মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী সিলেট মহানগর জামায়াতের সুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য। ধর্মভিত্তিক বেশিরভাগ দল ও সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী মাঠে তার পক্ষে সক্রিয় ভাবে ভূমিকা রেখেছেন। তবে শেষ মুহূর্তে নারী ও তরুণ ভোটারদের মাঝে জামায়াতের প্রচারণা উল্লেখ যোগ্য সাড়া ফেলেছে বলে জানা গেছে। এমনকি নতুন ভোটাররা জামায়াতের দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে আগ্রহী বেশি এমনটাই মাঠ পর্যায়ে বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক এডভোকেট রেজাউল করিম তালুকদার বলেন, “দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। নারী কর্মীদের প্রচারণায় বাধা ও হুমকির ঘটনা দু:খজনক। জনগণ নীরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহল মনে করছেন, জামায়াতের সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক, তরুণ ভোটারদের সাথে ডিজিটাল যোগাযোগ, এবং নারীদের নিভৃত প্রচারণা দাঁড়িপাল্লাকে একটি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। এ আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আব্দুল কাদির (দেয়াল ঘড়ি), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (লাঙ্গল), এনপিপির মো. আজিজুল হক (আম)। তবে তারা মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে থাকলেও নিজ নিজ ভোটব্যাংক ধরে রাখতে মাঠে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সর্বশেষ ভোর ৫টা পর্যন্ত ছাতক-দোয়ারায় ১৭০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে কোথাও কোন সমস্যার খবর পাওয়া যায় নি। প্রশাসন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভাবে নির্বাচন উপহার দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
সম্পাদকঃ আব্দুল বাতিন ফয়সল
সহ-সম্পাদকঃ আব্দুল মুহিত দিদার
মোবাইলঃ ০১৭৩০১২২০৫১
sylhetexpress.net