“সংগ্রামের পথ ভিন্ন, অভিন্ন লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ”—এই প্রতিপাদ্যে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগ ‘বিশ্ব ক্যান্সার দিবস ২০২৬’ উদযাপন করেছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে ক্যান্সার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সরদার বনিউল আহমেদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সকাল ৯টায় কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য ক্যান্সার সচেতনতা র্যালি বের করা হয়। র্যালির উদ্বোধন করেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. উমর রাশেদ মুনির, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. সালেহ আহমেদ এবং উপপরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম। র্যালিটি নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
র্যালি শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন, “প্রতিরোধই প্রতিকারের চেয়ে শ্রেয়। তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য পরিহার, নিয়মিত টিকাদান, শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।”
হাসপাতালের পরিচালক ডা. উমর রাশেদ মুনির বলেন, ক্যান্সার নির্ণয় থেকে শুরু করে নির্ণয়-পরবর্তী সকল চিকিৎসা সেবা প্রদানে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বদ্ধপরিকর।
ক্যান্সার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সরদার বনিউল আহমেদ বলেন, প্রতি পাঁচজন মানুষের মধ্যে একজনের জীবদ্দশায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় দুই কোটি মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে রোগীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাইনি ও অবস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. জামিলা খাতুন, সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. খালেদ মাহমুদ, নাক-কান-গলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. নূরুল হুদা নাইম, প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ মান্নান, ক্যান্সার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ওমর ফারুকসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক, মিড লেভেল ডাক্তার ফোরামের সদস্য এবং সেবিকাবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ক্যান্সার একটি মারাত্মক রোগ হলেও সচেতনতা বৃদ্ধি, টিকাদান, প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ ও নিরাময় সম্ভব। সবাইকে ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতন হয়ে একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।