সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে কাজ করছেন—এমন অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণ দাবি করেছেন সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই–শাল্লা) আসনের বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠানো এক লিখিত অভিযোগে তিনি এ দাবি করেন। অভিযোগের অনুলিপি সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও পাঠানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে নাছির চৌধুরী বলেন, জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া ও সুনামগঞ্জ-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে রুমমেট ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। এই ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে জেলা প্রশাসক সুনামগঞ্জে জামায়াতের ‘রাজনৈতিক পুনর্বাসনে’ সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে দু’বার বদলি হলেও জামায়াত প্রার্থী শিশির মনিরের তদবিরে ড. ইলিয়াস মিয়া স্বপদে বহাল থাকেন। হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ বাস্তবায়নে জেলা কাবিটা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি ১৪৫ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন দেন। দিরাই–শাল্লা এলাকায় বাঁধের কাজের মনিটরিং কমিটি ও পিআইসিতে বিএনপি বা অন্য কোনো দলের প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি; জামায়াত প্রার্থীর অনুসারীদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের অর্থ নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
নাছির চৌধুরী অভিযোগ করেন, গত ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে জেলার সব উপজেলায় জামায়াত নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হলেও বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পাশাপাশি ‘জুলাই বিপ্লবের’ যোদ্ধাদের সংবর্ধনার নামে সরকারি অনুষ্ঠানে জামায়াত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাঁদের পক্ষে ভোট চাওয়া হয়েছে। এর আগে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে জুলাই যোদ্ধা ও ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ হলেও কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
চলমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের অভিযোগও তোলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, দিরাই–শাল্লা উপজেলায় জামায়াত প্রার্থী শিশির মনিরের পছন্দের প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় পাস করাতে জেলা প্রশাসক তৎপর। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করার একটি সূক্ষ্ম কারচুপির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি প্রার্থী।
নাছির চৌধুরীর ভাষ্য, ‘সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনেই ধানের শীষের জোয়ার বইছে। এই বিতর্কিত কর্মকর্তার কারণে বিএনপির প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। তাকে অবিলম্বে অপসারণ না করা হলে নির্বাচনের দিন যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিতে হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার বক্তব্য জানতে তাঁর সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ক্ষুদে বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসাইন আহমদও জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দাখিল করেছিলেন।
সম্পাদকঃ আব্দুল বাতিন ফয়সল
সহ-সম্পাদকঃ আব্দুল মুহিত দিদার
মোবাইলঃ ০১৭৩০১২২০৫১
sylhetexpress.net