
সেলিম আউয়াল :
জীবনের প্রথম ঈদের জামায়াত আমার শাহী ঈদগাহে, অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় আগে। তারপর অধিকাংশ ঈদের জামাত এই শাহী ঈদগাহে আদায় করেছি।
সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহের মুল অংশ ছোট্ট একটি টিলার উপর। নিচে সমতল মাঠ। পুরো ঈদগাহটি বাউন্ডারি দেয়াল ঘেরা। এটি নির্মিত হয়েছে মোগল আমলে। মোগল ফৌজদার ফরহাদ খাঁ বানিয়েছিলেন। এই শাহি ঈদগাহে ইংরেজদের সাথে প্রত্যক্ষ লড়াইয়ে শহিদ হয়েছিলেন সৈয়দ মোহাম্মদ হাদি ও সৈয়দ মোহাম্মদ মেহেদি নামে দুই ভাই। তারা ছিলেন পীর সাহেব। ১৭৮২ সালের ১০ ই মহরম এই পীর ভ্রাতৃদ্বয় তাদের মুরিদান নিয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ লড়াই করেছিলেন। এই লড়াই হয়েছিলে তীতুমীরের বাঁশের কেল্লার লড়াইয়ের ৩০ বছর আগে।
আসলে শাহী ঈদগাহের ইতিহাস বর্ণনা নয়,একটি অনুভূতি শেয়ার করতেই এই ছোট্ট লেখা। অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় শাহী ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়লেও, আমি কখনো ঈদগাহের মুল অংশে নামাজ পড়িনি। কারণ আমরা যখন ঈদগাহে পৌঁছি, দেখি নিচের মাঠও পূর্ণ হয়ে গেছে। অনেক দিন ঈদগাহের বাউন্ডারির মধ্যে প্রবেশ করতে পারিনি, ঈদগাহের পাশের রাস্তায় নামাজ আদায় করতে হয়েছে। এবার ভাবলাম ঈদের নামাজ শাহী ঈদগাহের মুল অংশে আদায় করবো। সেই ভাবনায় ভোর ৬টা ২০ মিনিটে ঈদগাহে পৌঁছি। তারপরও আমাদের স্থান হয় ঈদগাহের সাত নম্বর কাতারে। আমি এবং ভাতিজা তাওসিফ একসাথে বসি। পুত্র তাজিম, কন্যা মাশিয়াত আমেরিকায়, ভাতিজা নাফি, ভাতিজি মালিহা কানাডায় এবং ভাতিজা ইবরাহিম, ভাতিজা ইউসুফ ইংল্যান্ডে। তাদের জন্য রইলো দোয়া।এবং সবকিছুতেই আল হামদু লিল্লাহ।
সম্পাদকঃ আব্দুল বাতিন ফয়সল
সহ-সম্পাদকঃ আব্দুল মুহিত দিদার
মোবাইলঃ ০১৭৩০১২২০৫১
sylhetexpress.net