
সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ ওভারসীজ সেন্টার মার্কেট ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং বর্তমান লিজগ্রহীতাদের স্থায়ী লিজ প্রদানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা দাবি করেন, ২০১৯ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রণীত নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ২৫ ভবনের তালিকায় ওভারসীজ সেন্টার মার্কেটের নাম ছিল না। অথচ এখন ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ দেখিয়ে উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ওভারসীজ সেন্টার ব্যবসায়ী সমিতির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। এতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম মাহিদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মার্কেটটিতে গত ৪২ বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসা লিজগ্রহীতারা বর্তমানে মানবিক, আর্থিক ও আইনি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। ভবন উন্নয়নের বিরোধিতা তাদের নেই, তবে উচ্ছেদের আগে স্থায়ী লিজ, পর্যাপ্ত সময় ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৯৭৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে বাংলাদেশ ওভারসীজ সেন্টার ট্রাস্ট গঠিত হয় এবং একই বছরের ২ অক্টোবর ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ট্রাস্টের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিচতলার ১৫টি দোকানকক্ষ দীর্ঘমেয়াদি লিজে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
১৯৮২ সালে ভবন উদ্বোধনের পর প্রবাসী ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী উচ্চমূল্যে দোকানকক্ষ লিজ নেন। সর্বোচ্চ একটি দোকানকক্ষ দুই লাখ ১০ হাজার টাকা সালামি দিয়ে লিজ নেওয়া হয় এবং দোকানগুলোর ডেকোরেশনও লিজগ্রহীতারা নিজ খরচে সম্পন্ন করেন। সে সময় নিলামের মাধ্যমে ২০ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী লিজ দেওয়ার মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ১৯৮২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত লিজের মেয়াদ শেষ হলেও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে ভাড়া গ্রহণ অব্যাহত থাকে। ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত একাধিকবার স্থায়ী লিজের আবেদন করা হলেও কোনো লিখিত লিজ ডিড দেওয়া হয়নি। তবে ২০১০ সালে বাংলাদেশ ওভারসীজ সেন্টার ট্রাস্টের ১০৯তম সভায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক, ট্রাস্টি বোর্ড ও লিজগ্রহীতাদের উপস্থিতিতে স্থায়ী লিজ নবায়নের সিদ্ধান্ত হয় এবং প্রতি বর্গফুট ৮ টাকা হারে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত পত্রে লিজ নবায়নের বিষয়টি জানানো হলেও আজ পর্যন্ত লিখিত লিজ ডিড দেওয়া হয়নি।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ২০১০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও লিজ ডিড প্রদান করা হয়নি, তবে নিয়মিত ভাড়া গ্রহণ করা হয়েছে। অধিকাংশ লিজগ্রহীতা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং কেউ কেউ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধ করেছেন বলেও জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হঠাৎ ভাড়া বাড়িয়ে প্রতি বর্গফুট ৮ টাকার পরিবর্তে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরে ৩০ ডিসেম্বর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত চিঠিতে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সব লিজ বাতিল এবং ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর মধ্যে দোকান খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ অবস্থায় দোকান মালিকরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত জেলা প্রশাসককে শোকজ করে রুল জারি করেন এবং বিশেষজ্ঞ মতামত ছাড়া ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চান। তবে রুল জারি থাকা সত্ত্বেও দোকান ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভবন উন্নয়নের বিরোধিতা তাদের নেই। তবে ভবন ভাঙার আগে ট্রাস্টের ১০৯তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমান লিজগ্রহীতাদের লিখিত স্থায়ী লিজ বা মালিকানা দিতে হবে। উচ্ছেদের ক্ষেত্রে অন্তত এক বছর সময় দিতে হবে এবং উন্নয়নকালীন সময়ে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যবসায়ীরা সরকার, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে উচ্ছেদ ও ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান এবং দীর্ঘদিনের লিজগ্রহীতাদের ন্যায্য অধিকার সংরক্ষণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কাজী মকবুল হোসেন, নাহিন ইবনে আব্দুর রব, মোহাম্মদ ফজলুর রহমান, জালাল আহমদ, জাহিদ আহমদ খান প্রমুখ।
সম্পাদকঃ আব্দুল বাতিন ফয়সল
সহ-সম্পাদকঃ আব্দুল মুহিত দিদার
মোবাইলঃ ০১৭৩০১২২০৫১
sylhetexpress.net