প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত


সিলেট নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত দাবি করে পালটা সংবাদ সম্মেলন করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দক্ষিণ সুরমা উপজেলার আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আলোচিত জমিটি তাদের পারিবারিক বসতভিটা ও মৌরসি সম্পত্তি।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিজানুর রহমান বলেন, গত ২০ জুলাই একই এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম রুমেল তার বিরুদ্ধে যে সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, নিজেদের মৌরসি সম্পত্তি রক্ষা করতে গেলে উল্টো আমাদের দখলদার বানিয়ে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ধরাধরপুর মৌজার অন্তর্গত এসএ ও বিএস রেকর্ড অনুযায়ী মোট ৪০ শতক ভূমির ওয়ারিশান মালিক তার পিতামহ মরহুম মো. মুছিম। ১৮৮৪ সালে ওই জমির একটি অংশ প্রতিবেশীদের কাছে বিক্রি করা হলেও অবশিষ্ট জমি তাদের দখল ও ভোগে ছিল। পরবর্তীতে ওই বিক্রিত জমির সঙ্গে আরও ২৮ শতক ভূমি ভুলক্রমে বা জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যপক্ষের নামে রেকর্ডভুক্ত হয় বলে তিনি দাবি করেন।
মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শহিদুল ইসলাম রুমেলের পিতা আজিজুল ইসলাম রেনু ওই ভুলের কথা স্বীকার করেছিলেন এবং ভবিষ্যতে জমি ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সম্প্রতি তার ছেলেরা ওই জমিতে সংস্কারকাজ শুরু করলে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও অপরপক্ষ শুধু রেকর্ড দেখাতে সক্ষম হয়, কোনো বৈধ ক্রয়দলিল উপস্থাপন করতে পারেনি। একপর্যায়ে সালিশ না মেনে তারা বৈঠক ত্যাগ করেন। পরে গ্রাম্য পঞ্চায়েতের পরামর্শে গত ১১ জানুয়ারি আদালতে স্বত্ব মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে দক্ষিণ সুরমা থানাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পায়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশ ও প্রবাস থেকে বিভিন্ন আইডি ব্যবহার করে তাকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করতে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে তার রাজনৈতিক পরিচয়কে সামনে এনে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, আমার রাজনৈতিক জীবনে কোনো ধরনের অন্যায় বা প্রভাব খাটানোর প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না।
এ সময় তিনি প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্ত, চলমান মামলায় হস্তক্ষেপ না করা এবং তার পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে পরিচিত সবাইকে আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন