জাবেদ আহমদ “
আজ (১ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ কার্তিক ১৪৩২ বাংলা, ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি শনিবার) ঢাকায় অবস্থান করছি। আজ সকাল সাড়ে দশটায় সহকর্মী মোঃ আব্দুল মতিন মোল্লা ও আমি মতিঝিল থেকে মেট্রোরেল চড়ে মিরপুর যাই। সিলেট নগরীর কাজী ইলিয়াস এলাকায় মেসবাড়ি জীবনের (১৯৯১-১৯৯৪) বন্ধু মিজানুর রহমান স্বরণ এর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের পূর্ব কাফরুলের বাসায় দাওয়াতে অংশ নিতে মেট্রোরেলে মিরপুর-১০ স্টেশনে নামি। মিরপুর -১০ থেকে রিকশায় চড়ে মিরপুর-১ এ হযরত শাহ আলী বোগদাদী (র.) এর মাজার শরীফ জিয়ারত জিয়ারত করি, মাজার সংলগ্ন মসজিদে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ি। সহকর্মী মোঃ আব্দুল মতিন মোল্লার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের ভুলতায়, তিনি মাজারের ভক্ত, নিয়মিত আসেন। ঢাকা নগরীতে অবস্থিত শাহ আলী (র.) মাজারের বিশাল কমপ্লেক্সে প্রশাসনিক ভবন, পুলিশ কন্ট্রোল রুম, বিরাট মাঠে বাউলদের অবাধ বিচরণ, পুকুর, পুরুষ মহিলাদের জন্য আলাদা বাথরুম, পাকঘর রয়েছে। বাংলাদেশ বাউল সমিতির কার্যালয় রয়েছে মাজার সংলগ্ন মার্কেটে। মাজারে লোকজন নানান খাবার নিয়ে আসে। আমরা থাকতে একজন পাকা কলা নিয়ে আসে, মতিন মোল্লা তবারক (শিরণী) হিসেবে একটি নিলে রিকশায় বসে আমরা দুজন ভাগ করে খাই। পরে আমরা মাজারের সন্নিকটে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান জিয়ারত করি। কবরস্থান মসজিদে জোহরের নামাজ শেষে একজন পুরুষের জানাজায় অংশ নেই। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান (জন্য:২৯ অক্টোবর ১৯৪১, মৃত্যু: ২০ আগস্ট ১৯৭১), বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান (জন্য:২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩, মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর ১৯৭১) এর কবর রয়েছে সম্মুখে। ভিতরে জাতির বীর সন্তানদের কবর সংরক্ষণ রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সৈয়দ মোহাম্মদ ফজলুল হক, আব্দুল কুদ্দুস মাখন, কাজী আরেফ আহমদ, নুরে আলম জিকু, মহিউদ্দিন আহমদ, এম, আর আকতার মুকুল, আব্দুল গফ্ফার চৌধুরী, সেক্টর কমান্ডার মেজর এম,এ জলিল, ফ্লাইট সার্জেন্ট মোহাম্মদ ফজলুল হক, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম, জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, জাতীয় কন্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বার, কথা সাহিত্যিক শওকত ওসমান, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু, অভিনেতা গোলাম মোস্তফা, সাংবাদিক কে,জি মুস্তফা, সুরকার ও গীতিকার আহমদ ইমতিয়াজ বুলবুল, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সিলেট বিভাগের সাবেক কমিশনার সা,জ,ম আকরামুজ্জামান, সাংবাদিক ও সম্পাদক গোলাম সারওয়ার প্রমুখের কবর চোখে পড়ে, কবরবাসী সকলের জন্য দোয়া করি। মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে একসময় ২৫ হাজার টাকা দিয়ে স্থায়ী কবর বিক্রি হত, সে সব সংরক্ষণ করে পরিবার সদস্যদের করর এখন সেখানে দেয়া হয়। বর্তমানে ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ২৫ বছরের জন্য কবর লীজের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া সাধারণের জন্য পাঁচশত টাকা ফি দিয়ে এখানে কবর দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কবরস্থানের কেয়ারটেকার মোঃ আমির হোসেনের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
জোহরের নামাজের পর আমরা ব্যাটারি চালিত রিকশায় চড়ে মিরপুর-১ থেকে বিআইবিএম, বিবিটিএ মিরপুর -১০ গোলচত্বর হয়ে মিরপুর ১৪ সড়ক দিয়ে গিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কাফরুলের বাসায় বেলা দুইটায় পৌঁছি। ৩৩/৩৪ বছরের পুরনো বন্ধু মিজানুর রহমান স্বরণের বাসায় দুপুরের খাবারের আগে পরে ৫ ঘন্টা ধরে আলোচনা চলে। ওয়েলকাম ড্রিঙ্কস ছিল ডাবের পানি। দুপুরে বিশ পনের পদের ভয়াবহ লাঞ্চ, বোরহানি, সন্ধ্যায় নুডুলস, চিকেন ফ্রাই, কোল্ড ড্রিঙ্কস, আইসক্রিম আর সবশেষে আবারো ডাবের পানি।
আমরা তিনজনই ( আব্দুল মতিন মোল্লা, মিজানুর রহমান স্বরণ ও আমি) ১৯৯১-১৯৯৪ সালে সিলেট নগরীতে একই মেসে বসবাস করতাম। আসর মাগরিবের নামাজ বাসায় পড়ি। সন্ধ্যার আগে বেরসিক বৃষ্টি ঢাকায় জোরেশোরে নামে, ঢাকার সর্বত্র আজ প্রবল বর্ষণ হয়। বৃষ্টির জন্য রাত আটটা পর্যন্ত গৃহে আটকে থাকি। ভাবি শামীমা শিল্পী (মিসেস মিজানুর রহমান স্বরণ), ভাতিজা ভাতিজিরা ব্যস্ত আমাদের নিত্য নতুন খাবার সরবরাহে। সন্ধ্যায় আবার হেভি নাস্তা চলে, তবুও আলোচনা শেষ হচ্ছে না, জমে থাকা কথা যেন শেষ হবার নয়। মেস জীবনের তিন বন্ধু মোঃ ইকবাল হাসান, সুভাষ চন্দ্র আচার্য্য ও প্রদীপ কুমার দাসের কথা খুব মনে পড়ে। সুভাষ বাবুর সাথে ফোনে আলাপ করি। তাঁদের নিয়ে ঢাকায় আবারো আড্ডা আলোচনায় বসতে আমরা একমত হই। প্রবল বর্ষণে সড়কে জমে থাকা হাঁটু পানি মাড়িয়ে ব্যাটারি রিকশায় আমরা শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনে পৌঁছে নিরাপদে মতিঝিল পৌঁছি। সেন্ট্রাল ব্যাংকার ও লেখক একেএম গোলাম বহলুল বস আজও মেসেঞ্জারে নক করে পূর্বাচলের নীলা মার্কেটে হাঁস
খাওয়া কবে হবে জানতে চান? বাংলাদেশ ব্যাংক ক্লাব ঢাকার সভাপতি মোঃ জহুরুল হক সিডিউল দিতে না পারায় আমরা তিনজনের হাঁসের মাংস খেতে পূর্বাচলে যাওয়া হচ্ছে না।
আজ (২ নভেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যায় আমরা (বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোঃ আমিনুল ইসলাম ও আমি) বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ডিজিএম জনাব মোঃ জামাল উদ্দিন চৌধুরীর ঢাকার বাসাবোর বাসায় বেড়াতে যাই। স্যার ২০০১ সালে প্রধান কার্যালয় হতে অবসরে যান। তাঁর বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ রায়গড় গ্রামে, ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।তিনি ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্লাব, সিলেট এর সভাপতি ছিলেন, বদলি হয়ে দুদফায় পাঁচ বছর সিলেট অফিসে কাজ করেছেন। সভাপতি পদে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১৯৯৩ ব্যাচের সহকারী পরিচালক (বর্তমানে নির্বাহী পরিচালক/ পিআরএল) মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম স্যার। স্যারের বাসাবোর দৃষ্টিনন্দন ফ্ল্যাটে অনেকক্ষণ বসে পুরনো দিনের নানান স্মৃতি রোমন্থন হলো। রাতের খাবারের বিশাল আয়োজন ছিল, আমরা মাত্র দু’জন এসেছি দেখে স্যার কিছুটা মনোক্ষুণ্ন হলেন। দুঃখ প্রকাশ করে আরেকদিন দলবল নিয়ে আসব বলে শান্তনা দিলাম। পর্দার আড়ালে থেকেও স্যারের সহধর্মিণী আমাদেরকে যথাযথ আপ্যায়নের তদারকি করেন।
ভার্চুয়াল মাধ্যমে আমাদের বেড়ানো দেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোঃ নিয়ামুল কবির বললেন আগে জানলে তিনিও যেতেন। নিয়ামুল স্যার জামাল উদ্দিন চৌধুরী স্যারের খুবই ঘনিষ্ঠ লোক। অক্টোবর মাস শেষ ও নভেম্বর মাস শুরু হয়েছে দাওয়াত খেয়ে। লক্ষণ শুভ না অশুভ বুঝতে পারছি না। ঢাকা দু’বছর অবস্থানের সময় দ্রুত শেষ হতে চলেছে। আজ (৩ নভেম্বর ২০২৫) দুপুরে আমার অফিস কক্ষে আসেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ডিজিএম মোঃ জামাল উদ্দিন চৌধুরী স্যার। তিনি সিলেটের দু’জন (বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট অফিসের নির্বাহী পরিচালক খালেদ আহমদ স্যার ও অবসরপ্রাপ্ত ডিজিএম আতিকুর রহমান স্যার) কে পৌঁছে দেয়ার আমার নিকট দুটি প্যাকেট দেন। বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের এক্সপেন্ডিচার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-২ এ আসেন নির্বাহী পরিচালক (অব.) মোঃ রজব আলী স্যার। বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে আমি তাঁকে চা চক্রে আপ্যায়ন করে দ্রুততার সাথে কাজ করে দেই। তিনি দীর্ঘদিন এ বিভাগের পরিচালক ছিলেন, ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর অধীনে আমি এ বিভাগে যোগদান করি। সন্ধ্যায় নির্বাহী পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম স্যার সান্ধ্যকালীন নাস্তার দাওয়াত দিয়েছিলেন, উভয়ের ব্যস্ততার জন্য স্থগিত হয়েছে। আজ কর্মদিবস শেষে পিআরএল গমণ করলেন বাংলাদেশ ব্যাংক মতিঝিল অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক গোপীনাথ চক্রবর্তী। একজন দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে দাদার সুনাম রয়েছে। ১৯৯৩ সাল থেকে তাঁর সাথে আমার সম্পর্ক রয়েছে।
আজ (৪ নভেম্বর ২০২৫) বাংলাদেশ ব্যাংক ক্লাব ঢাকার সভাপতি মোঃ জহুরুল হক ফোন আমাকে করে বললেন বহলুল বস লেভেল-১৮ তে দ্রুত আসতে বলেছেন। অতিরিক্ত পরিচালক একেএম গোলাম বহলুল একজন জুলাই কলম যোদ্ধা, অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষুরধার লেখনী রক্তচক্ষু দেখিয়ে কেহই থামাতে পারেনি। লেভেল ১৮ তে আমরা জিয়া পরিষদ বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয় ঢাকার সভাপতি মোঃ আব্দুল কুদ্দুস এর সাথে আলোচনা করি। পাশের কক্ষে বসা অতিরিক্ত পরিচালক আফসানা রহমান ম্যাডামের কক্ষে গেলে তিনি আমাদের মজাদার নাস্তায় আপ্যায়ন করান। মোঃ জহুরুল হক ভোজনরসিক, মজা করে তাঁর খাওয়া সবাই উপভোগ করেন। পরে আমরা এইচআরডি-১’র পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) এটিএম কামরুল কবির ভূঁঞা ও অতিরিক্ত পরিচালক ফিরোজ মাহমুদ ইসলাম এর সাথে দেখা করি। আজ সন্ধ্যায় নির্বাহী পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম স্যারের কক্ষে গেলে অরনেট সহকারী আমাদের থাই স্যুপ পরিবেশন করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক তদুর্ধ্ব স্যারদের প্রতিদিন চাইনিজ রেস্টুরেন্ট থেকে আনা স্যুপ (থাই, কর্ন ও ভেজেটবিল) এক বাটি দেয়া হয়। আজ সন্ধ্যায় অফিসার্স ডরমিটরিতে বিশ্রামের সময় একটা ফোন কল আসে, তিনি আমাদের গ্রুপ সিক্সের এডমিন। বললেন ডরমিটরির একগুঁয়ে খাবার আজ ভালো লাগছে না, রাতে মতিঝিলের খলিল হোটেলে খেতে চাই। যেই কথা সেই কাজ, গ্রুপ সিক্সে মেসেজ দিয়ে দিলাম, রোকেয়া খালাকে বললাম রাতের খাবার পরেরদিন সকালে যেন গরমাগরম পরিবেশন হয়। আজ আমরা চারজন ( মোঃ ফজলার রহমান, মোঃ ইকবাল হাসান, মোঃ আব্দুল আহাদ ও আমি) খলিল হোটেলে গরুর মাংসের কারি, ডাল ও সাদা ভাত দিয়ে ডিনার করি। খলিল হোটেলের রান্না খুবই সুস্বাদু, কেজি দরে গরুর মাংসের কারি পরিবেশন করে, প্রতি কেজি ১১০০ টাকা, আমরা চারজনে আধা কেজি খাই। ডিনার শেষে আমরা বড় সাইজের রসগোল্লা (প্রতি পিস ৫০ টাকা) খাই। ইকবাল হাসান মামা বললেন কয়েক বছর আগেও তিনি ও আমাদের আরেক বন্ধু মাকসুদ এক বৈঠকে কেজি মিষ্টি খেতে পারতেন। আজ কর্মদিবস শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক জনাব আবু সাঈদ সিকদার অবসর উত্তর ছুটিতে গমন করেন। জোহরের নামাজের পর বাংলাদেশ ব্যাংক সেন্ট্রাল মসজিদের ইমাম সাহেব তাঁর জন্য দোয়া করেন, তিনিও মুসল্লিদের কাছ থেকে বিদায় নেন।
আজ ( ৫ নভেম্বর ২০২৫) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম স্যারের কক্ষে আমরা সিলেটের চারজন (মোঃ আমিনুল ইসলাম, মোঃ আব্দুল হাফিজ, মোহাম্মদ আলী আকতার ও আমি) একসাথে লাঞ্চ করি। স্যার আমাদের নাস্তার দাওয়াত দিয়েছিলেন, আমি স্যারকে বললাম নাস্তার খরচে লাঞ্চ করানো যাবে, তিনি সম্মত হলেন। মতিঝিলের চুইলঙ্কা রেস্টুরেন্ট থেকে বড় একটি করে নান রুটি ও স্পেশাল ভেজিটেবল বক্স ৭৫ টাকায় পাওয়া যায়, স্যার সাথে চিকেন চাপ দুটি (৩০০ টাকা) আনালেন। ছয়শত টাকায় চারজনের হ্যান্ডসাম লাঞ্চ হয়ে গেল, সংক্ষেপে মজাদার ওয়ার্কিং লাঞ্চ সেরে সবাই স্বস্তিতে ডেস্কে ফিরেন। আজ বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংক এক আদেশে রেজল্যুশনের আওতায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকের জন্য পাঁচজন অস্থায়ী প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। পাঁচটি ব্যাংকের প্রশাসকরা হলেন মোঃ শওকাতুল আলম, নির্বাহী পরিচালক, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি, মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার, নির্বাহী পরিচালক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, মোঃ সালাহ উদ্দীন, নির্বাহী পরিচালক, স্যোশাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, মোহাম্মদ আবুল হাসেম, পরিচালক, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি ও মোঃ মোকসুদুজ্জামান, পরিচালক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।
প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সংবাদ সম্মেলনে বলেন একীভূত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক এখন সরকারি ব্যাংক। প্রশাসকেরা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন ও কার্যক্রম পুনরূদ্ধার করবেন। গভর্নর বলেন প্রশাসকেরা ব্যাংকগুলো একীভূত করে নতুন একটি ব্যাংকে রূপ দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাজ করবেন। আজ রাতে আলোচিত সিলেট-৪ সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ঢাকায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে আলাপ করে তিনি সিলেট -৪ আসনে ভোট যুদ্ধে অংশ নিতে সম্মত হন বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানান। ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননেতা এম, সাইফুর রহমানের পক্ষে তিনি সিলেট -৪ আসনে নির্বাচন পরিচালনা করেন, সে নির্বাচনে সাবেক সফল অর্থমন্ত্রী জয়লাভ করেছিলেন।
আজ (৬ নভেম্বর ২০২৫) মতিঝিল আরকে মিশন রোড বাংলাদেশ ব্যাংক নিবাস জামে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে অফিসার্স ডরমিটরির ছাদে আমরা (মোঃ ফজলার রহমান, মোঃ নুরুল আলম, মোহাম্মদ আলী আকতার ও আমি) আধা ঘন্টা হাঁটা চলা করি। ছাদের এক কোনে পাখিদের আগের রাতের উচ্ছিষ্ট খাবার দিলে খুবই মজা করে খায়। আজ বৃহস্পতিবার বাড়ি (সিলেট) ফেরার প্রস্তুতি নিতে সকালবেলা আর ঘুম হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংক জালালাবাদ কল্যাণ সমিতি, ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফারুক উদ্দিন আহমদ আজ ঢাকায় ইন্তেকাল করেছেন। তিনি কমলগঞ্জ বহুমুখী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রীদের পুনর্মিলনী ও ১৩৫ বছর উদযাপন কমিটির আহবায়ক ছিলেন। তাঁর পিতা কমলগঞ্জের কিংবদন্তিতুল্য রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক মরহুম ডাঃ চেরাগ উদ্দিন। দাফন কাফনের জন্য মরহুমের লাশ ঢাকা থেকে কমলগঞ্জ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ডিজিএম মোঃ জামাল উদ্দিন চৌধুরী স্যার ফোন করে মৃত্যু সংবাদটি জানালে আমি বাংলাদেশ ব্যাংক জালালাবাদ কল্যাণ সমিতির হোয়াটসঅ্যাপে ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এমপ্লয়িদের গ্রুপে পোস্ট দিলে সহকর্মীরা অবহিত হন, শোক ও সমবেদনা জানান । জালালাবাদ এসোসিয়েশন ঢাকার প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জসিম উদ্দিন আহমদ একদল প্রতিনিধি নিয়ে জানাজায় অংশ নিতে কমলগঞ্জ গেছেন বলে জানালেন তাঁর স্বজন বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক রফিক আহমদ।
আজ দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মোঃ কবির আহাম্মদ পিএইচডি মহোদয় ব্যাংক রেজল্যুশনের আওতায় পাঁচটি ব্যাংকের প্রশাসকদের আসবাবপত্র সরবরাহের সর্বশেষ অগ্রগতির খবর জানতে এক্সপেন্ডিচার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-২ এর পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে সরাসরি আমাকে ফোন দেন। বিভাগের পরিচালক রেজিয়া খাতুন অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকায় আমি দায়িত্বে রয়েছি। আমি ফোনে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নিয়ে স্যারের চেম্বারে গিয়ে সার্বিকভাবে অবহিত করি। এক্সপেন্ডিচার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-২ প্রধান কার্যালয়ের সবকটি বিভাগে আসবাবপত্র ও মনিহারী সামগ্রী সরবরাহ করে। আজ বাড়ি যেতে মতিঝিল সেনাকল্যাণ ভবনের সম্মুখ থেকে ফ্রেশ অস্ট্রেলিয়ান আপেল (প্রতি কেজি ৩০০ টাকা), বড় সাইজের ডালিম (প্রতি কেজি ৫০০ টাকা), উন্নতমানের পাকা পেঁপে ( প্রতি কেজি ৯০ টাকা) ক্রয় করি। ঢাকায় ফলের মান সিলেট থেকে অনেক ভাল থাকে। ঢাকা থেকে সিলেটের ট্রেন প্রতিদিন বিলম্বে ছাড়লেও আজ যথাসময়ে কমলাপুর ছাড়ে, সঠিক সময়ে সিলেট পৌঁছে। ট্রেনে ইকবাল হাসান মামার সাথে পাশাপাশি বসে যাই, অনেকদিন পর স্বস্তিতে (ব্রাহ্মণবাড়িয়া আজমপুর পর্যন্ত অতিরিক্ত যাত্রির উপদ্রব ব্যতিত) ট্রেন জার্নি হলো। ট্রেনে সহকর্মী মোঃ আব্দুল হাফিজ, রাজেশ আচার্য্য, মোহাম্মদ আলী আকতার, বাংলাদেশ ব্যাংক মতিঝিল অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সজীব বিশ্বাস ছিলেন। রাজেশ আচার্য্য নতুন কেনা মিনি ফ্লাক্সে আনা চা পান করান। তরুণ চিকিৎসক সজীব বিশ্বাস সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছেন। ঢাকা – সিলেট ট্রেনের বিদ্যমান ভাড়া এসি স্নিগ্ধা ৭৩৯ টাকা, শোভন চেয়ার ৩৯৫ টাকা, অনলাইনে দশদিন পূর্বে টিকিট কাটতে হবে।
সাপ্তাহিক ছুটির দু’দিন (শুক্রবার ও শনিবার) সিলেট থেকে আজ (৮ নভেম্বর ২০২৫) রাতের ট্রেনে ঢাকা ফিরছি। সহকর্মী মোঃ ইকবাল হাসান মামা সাথে রয়েছেন। দশদিন আগে অনলাইনে চেয়ার কোচের দুটি টিকিট কিনতে পেরেছিলাম, প্রতি টিকিটের মূল্য ৩৯৫ টাকা, ৭৩৯ টাকার স্নিগ্ধা এসি টিকিট পাইনি। চারশত টাকার কমে সিলেট থেকে ঢাকা ট্রেনে নিরাপদে যাত্রা করতে পেরে মন বেশ ফুরফুরে।
দুই রাত, দুই দিনের জন্য হোম টাউনে আসা, সময় দ্রুত চলে যায়। আজ (৭ নভেম্বর ২০২৫) সকালে ঢাকা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (পিআরএল) কাজী রফিকুল হাসান স্যার ফোন করে জানান সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি তাঁর এক পরিচিতজনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে রক্ত লাগবে, তিনি আমার সহায়তা চান। আমি দ্রুত কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সংগঠক বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক (পিআরএল) আবু তৈয়ব মোঃ আব্দুল্লাহকে অবহিত করি, কিছুক্ষণ পর তিনি ডোনার না পাওয়ায় অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে আমি সিলেটের ব্লাড ডোনার সংগঠক মোঃ জামাল উদ্দিনকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেই, তিনি দ্রুত রোগীর স্বজনদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করেন। ৩/৪ ঘন্টার মধ্যে এবি পজেটিভ গ্রুপের ব্লাড ডোনার সংগ্রহ করে আবারও যোগাযোগ করলে স্বজনরা জানান তাদের আত্মীয়ের মধ্যে থেকে রক্ত পাওয়া গেছে। মানবিক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠক জামাল উদ্দিনের আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। আজ রাতে জরুরি কাজে পারিবারিক রেস্টুরেন্ট উনদাল কিং কাবাব ও রয়্যাল শেফ চাইনিজ রেস্টুরেন্ট যাই। রয়্যাল শেফের ম্যানেজিং পার্টনার মোঃ আব্দুর রহিম ভাইয়ের সাথে দেখা হয়। সিলেট জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় মধুশহীদ জামে মসজিদের মোতওয়াল্লি চাচাতো ভাই মল্লিক চৌধুরীর সাথে দেখা ও কথা হয়। মধুশহীদ এলাকার ক্ষণিকালয়ে গিয়ে দুই মাস ইউকে সফর করে আসা চাচী জমজম খানম আহমদ ও চাচাতো বোন জেলওয়া সুলতানা শাম্মীকে দেখে আসি। সেখানে দেখা হয়ে যায় জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলশার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ জুলকারনাইন লস্কর মামার সাথে, তিনি চাচীর ছোট ভাই। সিলেটের বাসায় ৪/৫ মাস ধরে সিটি কর্পোরেশনের পানি সরবরাহ হচ্ছে না, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী বন্ধু মোহাম্মদ আলী আকবর’কে জানালে এখনও কোন সমাধান হয় নি। লাইনম্যান ইয়াসিনের পরামর্শে রাত জেগে আড়াইটায় এক ঘন্টা পানি পেলাম।
আজ (৮ নভেম্বর ২০২৫,শনিবার) সকালে ছোট মেয়ে চৌধুরী সায়িমা হুমায়রা আহমদকে সবুজ চা বাগান বেষ্টিত জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজে গাড়ি নিয়ে শাহজালাল উপশহর সংলগ্ন বিশ্বরোডে এম, এ হক সাহেবের পেট্রোল ও সিএনজি স্টেশনে গাড়ি লাইনে দাঁড়ায়। আমি পাশ্ববর্তী শাহজালাল উপকণ্ঠ ও শাহজালাল উপশহর সড়কে নির্মিত নান্দনিক ওয়াকওয়েতে রোদের মধ্যে ১৫/২০ মিনিট হেঁটে নেই। তিন তারকা হোটেল রোজভিউর সামনে দিয়ে সিলেট ল কলেজের গেটে যাই। সিলেট ল কলেজ আমার একটি স্মৃতিময় জায়গা। ১৯৮৮ সালে বি,কম (ব্যাচেলর অব কমার্স) পাশের পর সিলেট ল কলেজে ভর্তি হই। তখন ল কলেজ ছিল মিরাবাজার এলাকায় মডেল হাই স্কুলে, রাতের বেলা ক্লাস হতো। সে সময় সিলেট কোন বিশ্ববিদ্যালয়, দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। এমসি কলেজে সীমিত কয়েকটি বিষয়ে অনার্স ক্লাস ছিল, মাস্টার্স পড়তে হতো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। আমি ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলএলবি প্রিলিমিনারি ও ফাইনাল একসাথে তৃতীয় শ্রেণীতে পাশ করি। পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল তখনকার নবনির্মিত সিলেট ল কলেজের নিজস্ব ভবনে (বর্তমান ক্যাম্পাস)। ১৯৯১ সালে আমি নিয়মিত ছাত্র হিসেবে এলএলবি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা সিলেট এমসি কলেজ কেন্দ্রে দেই। ৩ জুলাই ১৯৯১ তৃতীয় বিষয়ের পরীক্ষা পিতার মৃত্যুর কারণে দিতে পারিনি। ১৯৯২ ও ১৯৯৩ সালে একই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হই। বাংলাদেশ ল স্টুডেন্ট ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার সভাপতি ছিলাম। আমাদের আম্বরখানা কলোনির অগ্রজ মরহুম মোঃ শফিকুর রহমান, জহিরুল আনাম খান মারুফ, সেলিম আউয়াল, মিসেস নুরুল আনাম খান ফারুক, বন্ধু হারান কান্তি সেন সিলেট ল কলেজে পড়াশোনা করেন। মোঃ শফিকুর রহমান, জহিরুল আনাম খান মারুফ ও হারান কান্তি সেন এলএলবি পাস করে বার কাউন্সিলের সনদ নিয়ে বেশ কিছুদিন আইনসেবা দেন। মারুফ ভাই ও বন্ধু হারান এখন আমেরিকার বাসিন্দা। আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট অফিসের গেটে গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত ডিজিএম মোঃ জামাল উদ্দিন চৌধুরীর দেয়া দুটি গিফট বক্স সহকর্মী রানা দাসের কাছে দিয়ে আসি, সে কাল উপহারগুলো সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দিবে। আজ ঢাকার দক্ষিণ কমলাপুর – বিশ্বরোডের সংযোগ স্থাপন করা দৃষ্টিনন্দন টিটিপাড়া আন্ডারপাস দিয়ে গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে। উপর দিয়ে ট্রেন আর নিচ দিয়ে ছয় লেনের আন্ডারপাস দিয়ে নির্বিঘ্নে গাড়ি, রিকশা, পথচারী চলাচল করছেন। পদ্মা সেতু রেল লিংক প্রকল্পের আওতায় নির্মিত টিটিপাড়া আন্ডারপাস নির্মাণ কাজ অনেক আগে শেষ হলেও কোন এক অজ্ঞাত কারণে তাতে দীর্ঘদিন যান চলাচলের অনুমতি ছিল না।
আজ রাতে উবার মোটরবাইকে সিলেটের সুরমা নদী পাড়ি দেয়ার সময় কিনব্রিজ সংলগ্ন নবাব আলী আমজাদ খান এর ঘড়িতে রাত এগারোটা বাজার ঘন্টা শুরু হয়। ১৮৭৪ সালে সিলেট নগরীর সুরমা নদীর তীরে নবাব আলী আমজাদ ঘড়িটি নির্মাণ করেছিলেন।যুগ যুগ ধরে বিরামহীনভাবে ঘন্টা বাজিয়ে চলছে নবাব আলী আমজাদের নির্মিত ঘড়িটি। শতবর্ষি কিন ব্রিজ আর আলী আমজাদের ঘড়ি সিলেটের অন্যতম সিম্বল।
আজ (৯ নভেম্বর ২০২৫) সকালে ট্রেনে সিলেট থেকে ঢাকায় ফিরি। মতিঝিল আরকে মিশন রোড বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ডরমিটরির পানির পাম্পে সমস্যা থাকায় একুশ মাসের ঢাকায় অবস্থানে আজ প্রথম সাময়িক পানির সমস্যায় পড়তে হয়। ভোরবেলা গোসল করে নিলেও অফিসে যাবার পূর্ব মুহূর্তে (সকাল সাড়ে ৯ টা) ডরমিটরি পানিশূন্য হয়ে পড়ায় কিছুটা দূর্ভোগ পোহাতে হয়। দ্রুত মেরামতের ফলে দুপুরের আগেই লাইনে পানি চলে আসে। আজ সকালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের এক্সপেন্ডিচার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট -১ ও ২ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম স্যারের অফিস কক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভায় অংশ নেই। এসব সভায় অংশ নিলে নগদ সম্মানির পাশাপাশি ও উন্নতমানের নাস্তাও পরিবেশন করা হয়। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) অনুসরণ করে এসব করা হয়। আজ বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্লাব ঢাকার সভাপতি মোঃ জহুরুল হক ফোন করে বললেন বহলুল বস লেভেল-১৮ তে আব্দুল কুদ্দুস স্যারের চেম্বারে আসতে বলেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে পদোন্নতির অপেক্ষমান তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এটা অতি স্বাভাবিক কাজ। ফি বছর ৩১ আগস্ট পদোন্নতির অপেক্ষমান তালিকা বাতিল হয়ে যায়। সেপ্টেম্বর মাসে নতুন প্যানেল তৈরির কাজ শুরু হয়, যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্যানেল অনুমোদনের পর সারাবছর (৩১ আগস্ট পর্যন্ত) খালি পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। ২০২৫ নভেম্বর মাস চলছে এখনও পদোন্নতির ফিট তালিকা চূড়ান্ত না হওয়ায় অনেকেই ফোন করছেন, সঙ্গত কারণেই সিলেট অফিস থেকেই আমার কাছে বেশি ফোন আসছে। নির্বাহী পরিচালক পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা অফিসার্স ডরমিটরিতে পাশের রুমে বসবাস করা একজন পরিচালক স্যার আপডেট জানতে চান, বলেন আপনার তো নেতাদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে, তাঁকে কিছু বলতে পারি না। বাংলাদেশ ব্যাংকে পদোন্নতি ও বদলি একটি ইউনিক নিয়মে চলে, নিয়মের ব্যত্যয় হয়না, এজন্য তদবির করতে হয়না।
বিভাগের কাজ শেষে জহুরুল হককে ফোন করলে জানতে পারি তাঁরা লেভেল ১৬ ক্রেডিট গ্যারান্টি ডিপার্টমেন্টের পরিচালক নাজমুল হক কিরন স্যারের কক্ষে আছেন। নাজমুল স্যার একজন দক্ষ সংগঠক, বাংলাদেশ ব্যাংক ক্লাব ঢাকার প্রাক্তন সভাপতি। স্যারের নির্দেশে আমার জন্য কফি ও বিস্কুট দ্রুত আসে। বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ইমাম হোসেন এর সৌজন্যে আমরা আবার টকদই ও মিষ্টি খাই। তিনি বললেন দুপুরে খাওয়া ভর্তার ঝাল নিবারণে এ আয়োজন। পরে আমরা ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন স্যারের কক্ষে যাই, সেখানেও কফি পান করতে হয়। বহলুল স্যারের সাথে যেখানেই যাই তিনি না খেলেও আমাদের খাওয়া দাওয়া অবশ্যই করতে হয়।
আজ (১০ নভেম্বর ২০২৫) দুপুরে গোলাম বহলুল বস ফোন করে বললেন হক সাহেব ডিপার্টমেন্টের সভায় ব্যস্ত, নিচে নামুন, ক্যান্টিনে চা পান করব। বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কাজ সীমাহীন, সীট থেকে উঠলেই ফাইলে টেবিল স্তুপ হয়ে যায়। দ্রুত ফাইলগুলো ছেড়ে দিয়ে খালি ম্যানুয়াল লিফটে ওঠে বিপত্তিতে পড়ি। আমি গ্রাউন্ডের কমান্ড দিলেও লিফট ক্রমাগত উপরে যেতে থাকে। লেভেল ১৫ তে ডালা খুললে দ্রুত নেমে ভিন্ন লিফটে নিচে নামি। কিছুটা দেরিতে ক্যান্টিনে পৌঁছে সবার সাথে চা চক্রে অংশ নেই। বহলুল বস ঘরের বাহিরে কোন খাবার খান না, শুধু লিকার চা পান করেন। সাথে থাকা সকলকে, বিশেষ করে জহুরুল হক সাহেব ঠিকঠাক খাচ্ছেন কি না সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখেন। আজ সন্ধ্যা ছয়টায় অফিস থেকে বের হবার আগেই ফোন দেই সহকর্মী মোঃ জহুরুল হককে। তিনি নিচে নামছেন বললে আমিও লেভেল ৭ থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামি। আমরা দুজন সন্ধ্যারাতে সবার দেখাদেখি ঢাকার ভাইরাল হওয়া ‘টিটিপাড়া আন্ডারপাস’ দেখতে চলে যাই, এটি আমাদের বাসার সন্নিকটে। বাসার কাছে সকালবেলা হাঁটার নান্দনিক আরেকটি স্পট হলো। দক্ষিণ কমলাপুর থেকে টিটিপাড়া যেতে চলতি গাড়ি থেকে দেখে বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা অফিসের নির্বাহী পরিচালক মোঃ রোকনুজ্জামান স্যার গাড়ি থামিয়ে আমাদের সাথে সেলফিতে অংশ নিলেন। আচমকা প্রিয় স্যারকে কাছে পেয়ে আমরা পুলকিত হই। আজ ছিল রোকনুজ্জামান স্বপন স্যারের জন্মদিন, জহুরুল হক ভাই প্রথমে শুভ জন্মদিন জানালে আমরাও স্যারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই। বাংলাদেশ ব্যাংক ক্লাব ঢাকার সভাপতি মোঃ জহুরুল হকের সহপাঠী বন্ধু খায়রুল ইসলাম (মাস্টার) আমাদের সাথে ছিলেন। একটি সামান্য আন্ডারপাসও যে মানুষের বিনোদনের মাধ্যম হয়ে ওঠতে পারে যা না গেলে বুঝা যেত না, মানুষজন হেঁটে হেঁটে সৌন্দর্য্য উপভোগ করে ছবি তুলছেন।
হাঁটাহাঁটি ও ফটো তোলা শেষে খায়রুল মাস্টারসহ পাশ্ববর্তী জহুরুল হক ভাইয়ের ‘কনকচাঁপা’র ফ্ল্যাটে গিয়ে মজাদার চারপদের নাস্তা ও ঘরে বানানো দই খাওয়া হলো। হাঁটার কোন ফাঁকে জহুরুল ভাই ভাবিকে ফোন করে এ বিপত্তি ঘটান। বগুড়ার মানুষের হাতের বসানো দইয়ের স্বাদ আমার কাছে ভাল লাগলেও তাঁরা মানতে রাজি হননি। ভাবি কালাইর রুটি দিয়ে ডিনার করতে বললেন, বলে কয়ে অন্যদিন খাব বলে বিদায় নিয়ে আসি। এর আগে সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ভোগ্যপণ্যে ঢু মারলে প্রিয় সুজন আমাদের স্যান্ডউইচ আর কফি দিয়ে আপ্যায়ন করে, জহুরুল হক দুটি ও আমি একটি স্যান্ডউইচ খাই। ডাবল নাস্তায় অফিসার্স ডরমিটরিতে রোকেয়া খালার দেয়া রাতের খাবার ফ্রিজে রেখে দিয়েছি, সকালে আমি আর পাখিরা ভাগাভাগি করে খাব। রাতে পাশের রুমের মোঃ মামুনুর রহমান স্যার ও ইকবাল হাসান মামার সাথে ভাগ করে পাকা পেঁপে খাই।
আজ (১১ নভেম্বর ২০২৫) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে এক্সপেন্ডিচার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-২ এর যুগ্ম পরিচালক তদুর্ধ্ব কর্মকর্তাদের সাথে একটি সভা করি, অতিরিক্ত পরিচালক গৌরাঙ্গ রায়’র বিদায় সংবর্ধনা আয়োজনের পাশাপাশি বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। আজ দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক কেন্টিনে গোলাম বহলুল স্যার, মোঃ জহুরুল হক ও আমি চা পান করি। চা পান উপলক্ষ থাকলেও আলোচনা হয় অফিসের সার্বিক বিষয় নিয়ে। অনেকের সাথে দেখাও হয়ে যায়।
আজ বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ ব্যাংক লাইব্রেরির উদ্যোগে ‘The Future of Economics: Reimagining for shared and sustainable prosperity’ শীর্ষক এক লেকচারে অংশ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (গবেষণা) জনাব গোলজারে নবী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. আক্তার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংক লাইব্রেরির পরিচালক তাসনিম ফাতেমা। সেমিনারে বিশেষজ্ঞ বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক।
দীর্ঘ সোয়া ঘণ্টার বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক অর্থনীতির উৎপত্তি থেকে বর্তমান সময়ের নানান বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি ইসলামিক অর্থনীতির বিষয়েও কথা বলেন। প্রফেসর ড. ওমর ফারুক বলেন আমাদের পাঠ্যবইয়ে নৈতিকতার শিক্ষা দেয়া হয় না। তিনি দেশে কয়েকটি ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিপর্যয়কে অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে না দেখে নীতিশাস্ত্র বা নৈতিকতার সমস্যা হিসেবে দেখছেন। তিনি আরো বলেন মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখে, অন্যের ক্ষতি না করে নিজের উন্নতি করলে কোন ক্ষতি হবে না। সফটওয়্যারের মাধ্যমে তিনি দেখান বিশ্বে প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) লোক দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছে, দিনে ২৫ হাজার লোক শুধু অনাহারে মারা যাচ্ছে, এমনকি সেমিনার চলাকালে এক ঘন্টায় মারা যায় একশত লোক। জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুম ভর্তি রেজিস্ট্রার্ড অংশগ্রহণকারীদের সাথে বসে পিনপতন নিরবতায় আমরা বিশেষজ্ঞ বক্তার বক্তব্য শুনি। শ্রোতাদের বেশিরভাগই ছিলেন অর্থশাস্ত্রে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া। অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রধান কার্যালয় ঢাকায় আজ প্রথম দেখা হলো বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট অফিস থেকে বদলি হয়ে আসা অতিরিক্ত পরিচালক ড. শিরীন আক্তারের সাথে।
আজ (১২ নভেম্বর ২০২৫) রৌদ্রজ্জ্বল সকালে মতিঝিল আরকে মিশন বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ডরমিটরির ছাদে আধা ঘন্টা হাঁটা শেষে ম্যাট বিছিয়ে পনের মিনিট ব্যয়াম করা হয়। সহকর্মী মোঃ ইকবাল হাসান মামা নেতৃত্ব দেন, সাথে ছিলাম জিয়াউল হায়দার ও আমি। আজ সকালে অনেক দিন পর বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মোঃ সিরাজুল ইসলাম স্যারের সাথে দেখা করি। সিলেট অফিস থেকে তরুণ প্রকৌশলী মামুন হোসাইন ছুটি নিয়ে ঢাকায় এসেছে, সেও ছিল আমার সাথে। প্রিয় স্যারের এখন কাজের অত্যধিক চাপ, সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি ব্যস্ত থাকেন। জরুরি কাজে তাঁর সাথে দেখা করা খুবই কষ্টকর হয়, আজ একান্তে কিছু সময় স্যারের সাথে কথা বলতে পেরে ভাল লাগলো। আজ দুপুরে ক্যান্টিনে বহলুল বস চা পান করালেন। আসছে শুক্রবার ও শনিবার সিলেট যাওয়া হচ্ছে না, দু’দিন কাজে লাগাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্লাব ঢাকার সভাপতি মোঃ জহুরুল হক ও অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আব্দুল আহাদ মিলে আমরা একটা সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছি। দু’দিন থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনায় জনজীবনে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকায় ঢাকায় মানুষজন নির্বিঘ্নে অফিস করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ডরমিটরির ৪০১ নম্বর রুমের বাসিন্দা সহকর্মী মোঃ আব্দুল হাফিজ এর সিলেটের বাসার সিঁড়িরুমে আজ দুপুরে এক বিষধর সাপ ঢুকে পড়ে। তাঁর সহধর্মিণী ভিক্ষুককে সাহায্য করতে ঘরের দরজা খুলে বের হওয়ার সময় সাপের উপস্থিতি চোখে পড়লে ‘সাপ সাপ’ বলে চিৎকার করেন। মুহুর্তেই বাসার ভাড়াটিয়া ও আশপাশের লোকজন এসে পিটিয়ে সাপকে মেরে ফেলেন। সহকর্মী মোঃ আব্দুল হাফিজের বাসায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) থাকায় আমরা ঢাকায় বসে বাহির থেকে ছয় ফুট লম্বা বিষধর সাপের আগমন, অবাধে ঘুরা ফেরা দেখতে পাই।
আজ (১৩ নভেম্বর ২০২৫) ফজরের নামাজের পর ইবাদত বন্দেগী ও হালকা বিশ্রাম নিয়ে সকাল সাড়ে সাতটায় ডরমিটরির ছাদে নিয়ম বেঁধে ব্যয়াম হয়, কঠোর অনুশীলনে শরীর মন চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। সকালবেলা ছোট মেয়ে ফোন করে জানতে চায় আজ সিলেট যাব কি না? যাচ্ছি না শোনে খুশি হয়, বলে আজ মুভ না করাই ভাল। আজ দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের এক্সপেন্ডিচার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-২ এর অতিরিক্ত পরিচালক গৌরাঙ্গ রায়’র বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডিরেক্টর ইনচার্জ হিসেবে আমি সভাপতিত্ব করি। আইসিটি ইন্টারনাল অডিট টিমের সাথে এক্সিট মিটিং করি। আইসিটি অডিট টিমের সদস্যরা নিজের সেফটির জন্য কোন অবস্থাতেই পাসওয়ার্ড কারো সাথে শেয়ার না করতে পরামর্শ দেন।
আজ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের রায়ের তারিখ ঘোষণার কথা ছিল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ গোলাম মর্তুজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মোঃ শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোঃ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী এর আদালত আজ এক আদেশে আগামী ১৭ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আজ দুপুরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনুস জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন। ভাষণে তিনি ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর প্রথম সপ্তাহে একইদিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে জানান। প্রধান উপদেষ্টা ভাষণে বলেন জাতীয় সংসদের উচ্চ কক্ষ সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে গঠন করা হবে। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে, তাঁরা একইসঙ্গে জাতীয় সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করবেন। জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করা হবে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর করা জুলাই সনদ আজ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। আজ রাতে অফিসার্স ডরমিটরির আমার ৪০৩ নম্বর কক্ষে আমরা ছয়জন (মোঃ ফজলার রহমান, মুহম্মদ নূরুল আমিন, মোঃ ইকবাল হাসান, মোঃ আব্দুল আহাদ, মোহাম্মদ আলী আকতার ও আমি) একত্রে বসে গল্প করি। মতিঝিলের ভ্যানে ফল বিক্রেতা ইকবাল মিয়ার কাছ থেকে কেনা পাকা পেঁপে পরিবেশন করি, পেঁপেটা খুবই সুস্বাদু ছিল। আজ রাত সাড়ে ১১টার পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে আমরা তিনজন (মোঃ জহুরুল হক, মোঃ আব্দুল আহাদ ও আমি) ঢাকার কমলাপুর থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেই।
আজ (১৪ নভেম্বর ২০২৫) শুক্রবার সাড়ে ১০ ঘন্টার ট্রেন জার্নি শেষে সকাল সোয়া ১০ টায় পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছি। উত্তরবঙ্গের শেষ জনপদ ও রেল স্টেশন পঞ্চগড়। ঢাকা – পঞ্চগড় (নন এসি শোভন চেয়ার) জনপ্রতি ভাড়া ৭৬০ টাকা। ফজরের নামাজের পর সকালের আলো ফোটার সাথে সাথে পার্বতীপুর, শান্তাহার, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, রুহিয়া, ঠাকুরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন নেমে ছবি তুলি, ট্রেন লাইনের দুপাশের জমিতে দিগন্ত জুড়ে পাকা সোনালী ধানে চোখ জুড়ে যায়। কৃষকেরা ধান কাটায় ব্যস্ত। পঞ্চগড় শহর করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত। নদী পাড়ি দিয়ে পূর্ব পাশে মূল শহরে ঢুকতে হয়, পশ্চিম পাশে রেল স্টেশন। পঞ্চগড় শহরের তেঁতুলিয়া মোড়ের জিরো পয়েন্টে জাতীয় তিন নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা এ,কে ফজলুল হক ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর প্রতিকৃতি রয়েছে। ব্যাটারির টমটমে রেল স্টেশন থেকে শহরে প্রবেশ করে রেস্টুরেন্টে নাস্তা শেষে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, পঞ্চগড়ের ডরমিটরিতে আমরা পৌঁছি। আমাদের সহযাত্রী মোঃ জহুরুল হকের বন্ধু এডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জজ মি. কৃষ্ণ কান্ত রায় ডরমিটরির ব্যবস্থা করে দেন, কোর্টের কর্মচারী জনাব আতিকুর রহমান আমাদের স্বাগত জানান। তিনি তেঁতুলিয়া, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট ঘুরে আসার জন্য এক হাজার টাকায় টমটম ভাড়া করে দেন। দ্রুততার সাথে আমরা তিনজন গোসল করে রেডি হয়ে টমটমে বের হয়ে পড়ি। পঞ্চগড় শহর থেকে বাংলাবান্ধার দূরত্ব ৫২ কিলোমিটার। পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া মহাসড়কে টমটমে যেতে শুরুতে বেশ আতংকিত ছিলাম। মহাসড়ক দিয়ে কিছুক্ষণ চলার পর টমটম চালক জাহাঙ্গীর আমাদের করতোয়া নদীর তীর দিয়ে গ্রামীণ সড়ক দিয়ে নিয়ে যায়। করতোয়া নদী থেকে পাথর ও বালু উত্তোলন করতে দেখি, বড় বড় ট্রাকে শ্রমিকদের বালু পাথর লোড করতে দেখা যায়।
সাতমেড়া গ্রামে ৯৩ নং খাসমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকট আমরা গাড়ি থামিয়ে দোকান থেকে পানি পান করি। পঞ্চগড়ে নলকূপের পানি সুস্বাদু। মাত্র চল্লিশ ফুটে পানির স্তর, ৩/৪ হাজার টাকা খরচে নলকূপ স্থাপন করা যায়। শহর গ্রামের হোটেল রেস্তোরাঁয় বিনামূল্যে পানি সরবরাহ করা হয়। পঞ্চগড়ে সমতলে ব্যক্তি পর্যায়ে চায়ের চাষ করা যায়। চা পাতার কেজি এখন ৩০ টাকা। ধান ও চা পাশাপাশি জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। তেঁতুলিয়া সরকারি কলেজ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করি। কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেটের ময়নাগুড়ি ডিভিশনে ঢুকে ফটোসেশন করি। সিলেটে টিলা ভূমির চা বাগান দেখতে অভ্যস্ত আমরা সমতলের চা বাগান দেখে খুবই ভালো লাগে। গ্রামীণ সড়ক পেরিয়ে আবারো টমটম তেঁতুলিয়া মহাসড়কে ওঠে। চলতি পথে পঞ্চগড় টি এস্টেট চোখে পড়ে, সিলেটের কৃতি সন্তান দানবীর রাগীব আলীর মালিকানাধীন বাগানটি শালবাহান রোড, মাঝিপাড়া, তেঁতুলিয়ায়। মহাসড়কের পাশে প্রস্তাবিত ‘রাগীব রাবেয়া হাসপাতাল’র জরাজীর্ণ সাইনবোর্ড দেখতে পাই। তেঁতুলিয়া মহাসড়কে চলার পথে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, চাওয়াই নদী (সীমান্ত নদী), বুড়াবুড়ী বাজারে ভেরসা নদী (মরা নদী), ডাহুক নদী (সীমান্ত নদী), টি ভ্যালি গ্রীণ রিসোর্ট, বাংলাদেশ – ভারত সীমান্ত খুঁটি (৪৩৬ নম্বর), তেঁতুলিয়া মহাসড়ক লাগোয়া দু দেশের সমতল ভূমিতে চা বাগান, একটু দূরে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া, তেঁতুলিয়া বাইপাস রোড দেখতে পাই। বাইপাস মোড়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতি রয়েছে। পরে তেঁতুলিয়া বাজার, পিকনিক কর্ণার, তেঁতুলিয়া ইকো পার্ক, তেঁতুলিয়া জিরো পয়েন্ট ঘুরে আমরা ডাকবাংলোয় যাই। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। বেলা তিনটায় আমরা বাংলাবান্ধা বাজারে রাজশাহী হোটেলে খাওয়া দাওয়া করি, হোটেল মালিক সেজান ইসলাম নিজে রান্না করেন, খাবার বেশ সুস্বাদু, দামও সহনীয়। চারজনের (ড্রাইভারসহ) লাঞ্চের বিল আসে ৭৫০ টাকা। লাঞ্চ সেরে আমরা বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর যাই। শিলিগুড়ি ১৬ কি.মি, দার্জিলিং ৭৭, গ্যাংটক ১৩৩, সিকিম ১৫৪ (ভারত), থিম্পু ২৮৬(ভূটান), কাঠমুন্ডু ৪৯৪ কি.মি (নেপাল) দূরত্বে অবস্থিত, লোকজন যাওয়া আসা ও মালামাল আমদানি রপ্তানিতে এ বন্দর ব্যবহার হয়। বাংলাবান্ধায় নীলফামারীর ডোমার উপজেলার এসএসসি চুরাশিয়ান বন্ধুদের সাথে দেখা, আলোচনা ও ফটোসেশন হয়। উত্তরের শেষ জনপদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে আমরা ফটোসেশন করি। আসরের নামাজ বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর বিজিবির ছোট্ট মসজিদে পড়ি। বাংলাবান্ধা থেকে সর্বশেষ স্পট কাজী এন্ড কাজী চা বাগানে যাই, সন্ধ্যা তখন ছুঁই ছুঁই করছে।
রওশনপুরে কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট ঘুরে দেখে আমরা হযরত বেলাল (রা.) জামে মসজিদ মাগরিবের নামাজ পড়ি। ফেরার পথে আমরা ভজনপুর বাজারে চা নাস্তা করি। স্থানীয় বাজার থেকে সাগর কলা ২০ টাকা হালি দরে কিনি। আমরা তিনজনের ( মোঃ জহুরুল হক, মোঃ আব্দুল আহাদ ও আমি) রাত জেগে ট্রেন জার্নির পর দিনব্যাপী ভ্রমণে কোন ক্লান্তির ছাপ নেই। রাত আটটায় পঞ্চগড় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ডরমিটরিতে ফিরে ফ্রেশ হয়ে এশার নামাজ আদায় করে আবারও শহরে বের হই। পঞ্চগড় জিরো পয়েন্টের কাঁচা বাজার থেকে জহুরুল হক বাসার জন্য শুঁটকির বড়া কিনবেন। আমরা স্ট্রিট ফুড (ভাপা পিঠা, গুড়ের সন্দেশ) খাই। পঞ্চগড় বাজারে ঢুকে আধা কেজি সুস্বাদু দেশি মাল্টা দোকানি কেটে দেন। পঞ্চগড়ে বেড়াতে এসেছি শুনে টাকা নিতে চান না, জোর করে আমরা পঞ্চাশ টাকা দেই। পঞ্চগড়ের মানুষের ব্যবহার খুবই ভালো, অতিথি পরায়ন। রাত অনেক হয়ে যাওয়ায় অনেক খুঁজে একটি শুঁটকির দোকানে বড়া পেয়ে জহুরুল হক ভিডিও কল দিলে মিসেস জেরিনের পছন্দ হয়, কেনাও হয়ে যায়। পঞ্চগড়ে পর্যটকদের কাছ থেকে বেশি অর্থ নেয়ার প্রবণতা কম চোখে পড়েছে। রাতে পঞ্চগড় করতোয়া নদীর ব্রিজ থেকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ডরমিটরিতে ফেরার একটি খালি ভ্যানে ওঠলে তিনি আমাদের ফ্রি পৌঁছে দেন, চালক আতাউর রহমান বললেন তিনি যাত্রি পরিবহন করেন না, নিজেদের ব্যবসার মালামাল পরিবহন করেন। ১৫ নভেম্বর ২০২৫ শনিবার সকালে আমাদের ট্রেনে ঠাকুরগাঁও যেতে হবে। ভোরে ঘুম থেকে উঠে জজকোর্টের বিপরীতে পঞ্চগড় সদর হাসপাতাল জামে মসজিদ ফজরের নামাজ আদায় করি। পরে দ্রুততার সাথে পঞ্চগড় পৌরসভা নির্মিত জেলার ৫৩ জন (তেঁতুলিয়া উপজেলা ১৩, পঞ্চগড় সদর উপজেলা ১৯, বোদা উপজেলা ১১, অটোয়ারী উপজেলা ৬ ও দেবীগঞ্জ ৪) শহীদ মুক্তিযোদ্ধার তালিকাসহ স্মৃতিসৌধ, সার্কিট হাউস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ আশপাশের অফিসসমূহ ঘুরে দেখি। সকাল পৌনে সাতটায় ব্যাটারি চালিত রিকশা ভ্যানে চড়ে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে রওয়ানা দেই। করতোয়া নদীর ব্রিজের মাঝখানে ভ্যান থামিয়ে সূর্যোদয় দেখি, করতোয়ার সাথে ফটোসেশন করি। পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে সামনের পুকুরের তীরঘেঁষে ওয়াকওয়েতে এক চক্কর দেই। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ৭.২০ পঞ্চগড় থেকে ট্রেন যাত্রা শুরু করে। উত্তরবঙ্গের ব্রডগেজ রেলপথে ট্রেন চলাচল খুবই আরামদায়ক। ট্রেন লাইন অপেক্ষাকৃত চওড়া, চলে দ্রুত গতিতে। ট্রেনের বগিতে এক সারিতে ৫ টি সীট থাকে। বাথরুম এক পাশে দুটি থাকে।
ঠাকুরগাঁও শহরে আজ (১৫ নভেম্বর ২০২৫) সকাল আটটায় এসেছি। ঠাকুরগাঁও রোড রেলওয়ে স্টেশন থেকে ভ্যানে টাংগন নদীর ব্রিজ পেরিয়ে দেখলাম মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে অপরাজেয় ৭১, পরে আমরা (মোঃ জহুরুল হক, মোঃ আব্দুল আহাদ ও আমি) কালিবাড়ী তিতুমীর সড়কে বিএনপির মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর বাসভবন দেখে এলাম।
ঠাকুরগাঁও শহরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যারের বাড়িতে গেলে দায়িত্বরত মোঃ আবু বকর সিদ্দিক আন্তরিকতার সাথে সামনের টিনশেডের বৈঠকখানায় আমাদের স্বাগত জানান। পুরনো দিনের অভিজাত পরিবারে বসবাসের ঘরের সামনে কাছারি, বৈঠক বা টঙ্গী ঘর থাকত। ঠাকুরগাঁও শহরে প্রিয় নেতার বাসভবনে এসেও পুরনো দিনের সে ঐতিহ্য দেখতে পেলাম। দুই ঘণ্টার অবস্থানে ভ্যানচালক মোঃ আতাউর রহমান আমাদের ঠাকুরগাঁও শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখান। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী এবং ঠাকুরগাঁও ডিগ্রী কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যারের ছাত্র। ঠাকুরগাঁও বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন আয়োজন হোটেলে সাদা ভাত, ভর্তা ভাজি, গরুর গোশতের কারি, ছোট মাছ, ডাল দিয়ে হেব্বি সকালের খাবার খেয়ে (তিন জনে ৭৪০ টাকা) সকাল ৯.৩৫ এর গেটলক বাস গাড়িতে (জনপ্রতি ভাড়া ৯০ টাকা) দিনাজপুরের ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদ ও কান্তজিউ মন্দির দেখতে রওয়ানা দিলাম। দুটিই চারশত বছরের পুরনো মোগল স্থাপত্য। ৪৫ মিনিটের জন্য ব্যাটারি রিকশা চালনা ও গাইডের জন্য আতাউর রহমানকে দুইশত টাকা দেই। চলতি পথে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা, সার্কিট হাউস, সিভিল সার্জন অফিস, জেলা জজ আদালত, সড়ক ভবন, ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ (বড় মাঠ), জুলাই চত্বরসহ সরকারি নানান স্থাপনা। সকাল সোয়া দশটার আমাদের গেটলক বাস দিনাজপুরের কান্তনগর (বার মাইল) স্টপেজে থামে। ব্যাটারির রিকশায় জনপ্রতি দশ টাকায় আমরা মাইল দূরে ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দির এলাকায় পৌছি। আজ সকাল আমাদের তিন জেলায় (পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর) কাটলো।
প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আবহে ঘেরা ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দির দিনাজপুর জেলা শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার উত্তরে দিনাজপুর ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের পশ্চিম পাশে কাহারোল উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্তনগর গ্রামে শ্যামগড় মৌজায় ঢেঁপা নদীর তীরে অবস্থিত। ১৭০৪ দিনাজপুরের খৃষ্টাব্দে তৎকালীন রাজা প্রাণনাথ রায় কান্তজিউ মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন, নির্মাণ কাজ চলাকালে রাজার মৃত্যুবরণ করলে তাঁরই পোষ্যপুত্র রাজা রামনাথ রায় নির্মাণ কাজ চালিয়ে যান। নির্মাণ কাজ চলে ৪৮ বছর, ১৭৫২ খৃষ্টাব্দে কান্তজিউ মন্দিরের কাজ শেষ হয়। ১৮৯৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হলে রাজা গিরিজানাথ রায় বাহাদুর সংস্কার করেন। এলাকার মানুষের পানি সমস্যা দূরীকরণে দিনাজপুর শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে বিশালাকৃতির ‘রামসাগর দিঘি’ ১৬৮২ খৃষ্টাব্দে জমিদার প্রাণনাথ রায় খনন করেন। কান্তজিও মন্দির থেকে দুই কিলোমিটার দূরে দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার কান্তনগর ১২ মাইল এলাকার ‘নয়াবাদ মসজিদ’ একটি মোগল স্থাপনা। ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের শাসনামলে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন নয়াবাদ মসজিদটি একটি সংরক্ষিত এলাকা। কাহারোল উপজেলা প্রশাসন, দিনাজপুর এটি পরিচালনা করেন। আমি ও মোঃ আব্দুল আহাদ মসজিদে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ি। নয়াবাদ গ্রামের বসবাসকারীদের শতকরা দশভাগ মুসলিম। ২৩২ বছরের পুরনো নয়াবন্দ মসজিদ দেখতে প্রতিদিন বিপুল পর্যটক আসেন। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক ওয়াশ রুম, সুন্দর অজু খানা রয়েছে, ব্যবহার করতে কোন অর্থ প্রদান করতে হয় না।মসজিদ কমপ্লেক্সে ইরান থেকে আসা পারস্যের প্রধান নির্মাণ কর্মীর কবর রয়েছে। কান্তজিউ মন্দির নির্মাণ করতে আসা পারস্যের (ইরান) মুসলিম নির্মাণ শ্রমিকরা নিজেরা ইবাদতের জন্য মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। মসজিদের তরুণ ইমাম মোঃ আল আমিনের সাথে আমরা কথা বলি তিনি ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদের নানান বিষয়ে বর্ণনা দেন। তিনি জানান পর্যটকদের গাড়ি পার্কিং এর সুবিধার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন করে কিছু জায়গা ক্রয় করা হয়েছে। নয়াবাদ গ্রামে শতকরা দশ ভাগ মুসলিম, ৯০ ভাই হিন্দু (সনাতন) ধর্মের লোক বসবাস করেন, সকলের প্রধান পেশা কৃষি কাজ ও পশুপালন। এখানে সুন্দর একটি লিচু বাগান চোখে পড়েছে। ‘ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদ ও কান্তজীউ মন্দির’ নামে স্থানীয় পর্যটক গাইড সেলিম রেজা এমবিএ একটি চটিবই লিখেছেন, যা থেকে কিছু তথ্য জানা গেছে। ব্যাটারি চালিত খোলা ভ্যানে ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দির থেকে দুই কিলোমিটার দূরে ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদ দেখে আবার ঘুরে কান্তনগর ১২ মাইল দিনাজপুর – ঠাকুরগাঁও মহাসড়কে যাই। ভ্যান ভাড়া দেই একশত টাকা, চালক খুশি হলেও সহযাত্রী মোঃ আব্দুল আহাদ বললেন ভাড়া কমই হয়েছে। বাংলার গ্রামবাংলার অপরূপ সৌন্দর্যে আমরা বিমোহিত হই। দুপুর ১২ টায় গেটলক বাস চড়ে আমরা দিনাজপুর বাসস্ট্যান্ডে নামি। দিনাজপুর থেকে ঢাকা যাবার ট্রেন ছাড়বে বেলা ২.২০, হাতে রয়েছে ২ ঘন্টা ২০ মিনিট। ব্যাটারির টমটম ভাড়া করে আমরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রাজবাড়ী ও পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক রামসাগর দিঘি দেখতে রওয়ানা হই।
দিনাজপুর শহরের উত্তর পূর্ব প্রান্তে ঐতিহাসিক ‘রাজবাড়ী’ সদর উপজেলার রাজবাটী (শিবতলী) এলাকায় অবস্থিত। ১৫ নভেম্বর ২০২৫ দুপুরে দ্রুততার সাথে আমরা রাজবাড়ী ঘুরে দেখি। দেবাঞ্জন ভট্টাচার্য্য ও বিধান দত্তের সম্পাদনায় টাঙ্গানো ফেস্টুন থেকে রাজবংশের ইতিবৃত্ত জানা হলো। ১৬০০ খৃষ্টাব্দের আগে ব্রম্মচারী কাশিনাথ ঠাকুরকে দিয়ে রাজবংশের তালিকা শুরু, শেষ হয় জলধিনাথ রায় (১৯২৬-১৯৪১)। মহারাজা শুকদেব রায়, প্রাণনাথ রায়, মহারাজা রামনাথ রায়, মহারাজা বৈদ্যনাথ রায়, রাণী শ্যাম মোহিনী, মহারাজা তারকনাথ রায়, মহারাজা গিরীজানাথ রায় বাহাদুর, সর্বশেষ মহারাজা জগদীশনাথ রায় ( রাজত্বকাল ১৯১৯-১৯৫১) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী রাজবাড়ীতে টানানো রয়েছে। আমরা রাজবাড়ীতে মাত্র বিশ মিনিট অবস্থান করায় দ্রুততার সাথে সবকিছু দেখতে হয়। রাজবাড়ী থেকে বের হয়ে টমটমে আমরা ছুটি রামসাগর দিঘি দেখতে।
রামসাগর দিঘি দিনাজপুর শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে তাজপুর গ্রামে অবস্থিত। প্রজাদের পানির কষ্ট নিবারণের জন্য রাজা রামনাথ রায় ১৭৫০ – ১৭৫৫ সালের মধ্যে এ দিঘি খনন করেছিলেন। তাঁর নামানুসারে দিঘির নামকরণ হয় ‘রামসাগর দিঘি’। এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, এর চারপাশে জাতীয় উদ্যান অবস্থিত। রামসাগর দিঘির আয়তন প্রায় ৪৩২৪৯২ বর্গমিটার। টমটমে কোতয়ালী থানার পুলহাট এলাকায় পৌঁছালে বিশাল যানজটের কবলে পড়ি। পুলহাটে মাইল এলাকা জুড়ে সড়কের দু’পাশে বিশাল বিশাল অটো রাইস মিল গড়ে উঠেছে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ট্রেন মিসের আশংকায় রামসাগর দিঘির এক কিলোমিটার দূরে থাকতে আমরা টমটম ঘুরিয়ে শহরে ফিরে আসি, অল্পের জন্য রামসাগর দিঘি দেখতে পারলাম না। টমটমে বসে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, স্টেশন ক্লাব (প্রতিষ্ঠা ১৮৮৭), দিনাজপুর পৌরসভা কার্যালয় দেখে ঈদগাহ বড় মাঠে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করি। বিশাল মাঠে কিশোর খেলাধুলা করছিল। দুপুর সোয়া একটায় আমরা দিনাজপুর রেল স্টেশনে পৌঁছে টমটম ছাড়ি। স্টেশন সংলগ্ন নিউ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে আমরা লাঞ্চ করি। লাঞ্চের মেন্যু ছিল সোনালী মোরগ, শিং মাছ, ভর্তা, ডাল, আচার। তিনজনের বিল আসে ৭৭৫ টাকা। ভিস্তিয়ানি জামে মসজিদ, স্টেশন রোড দিনাজপুরে জামাতের সাথে জোহরের নামাজ আদায় করি। ঘড়ির কাঁটা ২ টা হতেই পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড় এক্সপ্রেস দিনাজপুর স্টেশনে পৌঁছে, ছাড়ার নির্ধারিত সময় ২.২০। এক মিনিট বিলম্বে ২.২১ ট্রেন ঢাকার পথে ছেড়ে প্রথম ষ্টপিজ দেয় পার্বতীপুর স্টেশনে। ট্রেনে বসে দিনের আলোয় জয়পুরহাট সরকারি কলেজ সংলগ্ন বিশালাকৃতির ‘বারঘাটি পুকুর’ দেখি। উত্তরাঞ্চলের বিস্তির্ণ মাঠে পাকা ধান ঘরে তোলার উৎসব চলছে, ট্রেনে বসে তা প্রত্যক্ষ করি। সহযাত্রী মোঃ জহুরুল হকের মোবাইলে পুরনো দিনের গান বেজে চলেছে, দুদিনের বেশ উপভোগ্য সফর শুরুর সাথে সাথেই শেষ হতে চলেছে। আরেক সহযাত্রী মোঃ আব্দুল আহাদ খুবই সতর্ক তাঁর দামি মোবাইল নিয়ে। ট্রেনে চার্জের পয়েন্ট থাকায় আমরা ইচ্ছেমত মোবাইল ব্যবহার করতে পারছি। ট্রেনে দুইশত টাকা দিয়ে পলিথিন ব্যাগ ভর্তি ( বিক্রেতার দাবি এক কেজি) আপেল কিনি, হকার ‘আপিল আপিল’ বলে চিৎকার করছে। আপিল ডাক শুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন শাস্ত্রে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নেয়া জহুরুল হক মুচকি হাসছেন।
ঢাকা কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছার সিডিউল টাইম সোয়া দশটায়, ক্রসিংয়ের জন্য শান্তাহার ও জয়দেবপুরে অনেক্ষণ থেমে থাকায় আজ পৌঁছাতে দেরি হবে। রাত পৌনে ১১টায় ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে পৌঁছে, পথে আমাদের বগিতে ঢিল ছুঁড়লে অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, প্রাণে রক্ষা পাই। জহুরুল হক দ্রুত জানালা লাগান, কিছুক্ষণ পর আবার খুলে দেন। মোবাইল হাতে নিয়ে রবীন্দ্র, নজরুল, পুরনো দিনের গান শুনছেন জহুরুল, সাথে আমিও। আমাদের সীট ছিল ৩,৪ ও ৫, দরজার কাছাকাছি সীট। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়তেই ঘটে বিপত্তি, এক দূরন্ত কিশোর দরজা থেকে লাফ দিয়ে চিলের মত ছু মেরে জহুরুল হকের হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে নিরাপদে মাটিতে নামে। এ যেন এক প্রশিক্ষিত জিমন্যাস্ট, জহুরুল হক চিৎকার করলে, কিশোর মুখ ঘুরিয়ে বিজয়ের হাসি দিয়ে হাঁটা শুরু করে। আমাদের দুদিনের আনন্দময় সফরে কিছুটা ছেদ ঘটে। রাত সোয়া এগারোটায় কমলাপুর পৌঁছে ব্যাটারি রিকশায় আমরা জহুরুল হককে দক্ষিণ কমলাপুরের বাসায় নামিয়ে আরকে মিশন রোড বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ক্লাবের পৌঁছি। ১৬ নভেম্বর ২০২৫ বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে এক্সপেন্ডিচার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-২ এর পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে টানা আটার দিন দায়িত্ব পালনের শেষ দিন ছিল। আজ সকালে খুলনা থেকে ঢাকায় আসেন নির্বাহী পরিচালক (পিআরএল) শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন স্যার, তিনি আমাদের গ্রুপ সিক্সের প্রধান উপদেষ্টা। অফিসার্স ডরমিটরিতে তাঁকে বরণ করে আমার কক্ষে রেখে অফিসে আসি, রাতে তাঁর সম্মানে গ্রুপের পাঁচজন সদস্যের উপস্থিতিতে মতিঝিলের খলিল হোটেলে নৈশভোজ হয়। আজ দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের এক্সপেন্ডিচার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-২ এ স্থানীয় যাতায়াতের বিল পরিশোধে সফটওয়্যার তৈরির কাজের অগ্রগতি নিয়ে আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে বিশেষ সভা করি। দুপুরে বহলুল বস ক্যান্টিনে চা চক্রের সময় জহুরুল হকের চুরির বিষয়ে বলেন ঝুঁকি নিয়ে মোবাইল চুরি করে চোর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মোবাইলের যে কন্ডিশন বুঝতে পেরে মালিককে ভৎসনা দিবে। তিনি জহুরুল হককে দ্রুত ফোন কিনার তাগিদ দেন। ১৭ নভেম্বর ২০২৫ সকালে নির্বাহী পরিচালক (পিআরএল) শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন স্যার গ্রুপ সিক্সের সদস্যদের সকালবেলা নাস্তা করান। আজ সকালে অস্ট্রেলিয়ায় বাইশ দিন সফর করে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক রেজিয়া খাতুন যোগদান করলে তাঁকে আমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাই। ম্যাডাম বিভাগের সকলকে অস্ট্রেলিয়া থেকে নিয়ে আসা চকলেট দেন। পরে পরিচালক ম্যাডামকে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার ম্যাডামের চেম্বারে যাই, সৌজন্য সাক্ষাতের সময় আমরা বিভাগের কিছু সমস্যা ডেপুটি গভর্নর ম্যাডামের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। পরে আমরা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম স্যারের সাথে দেখা করি। আজ দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪ জন নির্বাহী পরিচালকের পিআরএল গমণ উপলক্ষে সচিব বিভাগের উদ্যোগে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাননীয় গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, ড. হাবিবুর রহমান ও মোঃ জাকির হোসেন চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিদায়ী অতিথিদের মধ্যে ড. সায়েরা ইউনুস, মনসুরা পারভীন, সাইফুল ইসলাম, মোঃ ফোরকান হোসেন, মোঃ সাইফুল ইসলাম খান, সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া, মোঃ রুহুল আমিন,শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন, ছৈয়দ আহমদ, মোঃ সাব্বিরুল আলম চৌধুরী, মোঃ ওসমান গণিসহ ১৩ জন নির্বাহী পরিচালক উপস্থিত ছিলেন, নির্বাহী পরিচালক একেএম এহসান স্যার অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন। আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মাননীয় গভর্নর কর্মকর্তাদের বার্ষিক পদোন্নতির অপেক্ষমান তালিকা অনুমোদন করেন।
আজ (১৮ নভেম্বর ২০২৫) সকালে নির্বাহী পরিচালক (পিআরএল) শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন স্যারকে নিয়ে রমনা পার্কে যাই, বর্ষিয়ান কোচ কবির চৌধুরীর সাথে রমনা প্রভাতীর টেন্টে গিয়ে দেখা করি, তাঁর দেখানো কয়েকটি ব্যায়াম করি। রমনায় আজ দেখা ও কথা হয় বিআরডিবির অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আব্দুল মতিন সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক আশরাফুল ইসলামের সাথে, মতিঝিল শাপলা চত্বরে হয় বাংলাদেশ ব্যাংক ক্লাব ঢাকার সভাপতি মোঃ জহুরুল হকের সাথে। দুপুরে মতিঝিলের চুইলঙ্কা রেস্টুরেন্টে শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন স্যারের সৌজন্যে লাঞ্চ করি, ছোট মাছ, ভর্তা সবজি ডাল দিয়ে দু’জনের লাঞ্চের বিল আসে ৩৪০ টাকা। বিকাল সাড়ে চারটায় গ্রীনলাইন পরিবহনে তিনি খুলনায় চলে যান। আজ সন্ধ্যায় মোঃ জহুরুল হকের মোবাইল কিনা হলো। মতিঝিলে রিয়েলমি’র এক্সক্লুসিভ শোরুম থেকে নতুন মোবাইল সেট কেনার সময় গোলাম বহলুল বস ও আমি সাথে ছিলাম। মোবাইল চুরির পর স্বাভাবিক নিয়মে জহুরুল হক এটি কিনেন নি, চোরের ওপর অভিমান করে তিনি মোবাইল ধীরে কেনার সিদ্ধান্ত নেন, আমরা ক্রমাগত চাপ দিতে থাকি। মোবাইল না থাকায় তার সাথে আমাদের যোগাযোগে অসুবিধা হচ্ছিল। আমাদের চাপে বাধ্য হয়ে বাহাত্তর ঘন্টা পর তাঁর মন গলে, রাজি হন মোবাইল কিনতে। তাঁকে নিয়ে দ্রুততার সাথে মতিঝিলের কয়েকটি শোরুম ঘুরে নতুন সেটটি কিনে নেই। ১৯ নভেম্বর ২০২৫ বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে ২০২৫-২০২৬ বছরের অপেক্ষমান তালিকা হতে প্রথম পদোন্নতি হয়। নির্বাহী পরিচালক হিসেবে আজ পদোন্নতি পান সামসুল আরেফিন ও শাফায়েত আরেফিন স্যার। পরিচালক পদে পদোন্নতি পান চারজন। বেলা তিনটায় গোলাম বহলুল বস ফোন করে বলেন লেভেল পঁচিশে দ্রুত আসেন, পদোন্নতির মিষ্টি খাবেন। ডরমিটরি থেকে দ্রুত যাই, দেখা হয় জিয়া পরিষদ বাংলাদেশ ব্যাংক কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শেখ আব্দুল কুদ্দুস ভাইয়ের সাথে, ডাবল মিষ্টি খাই। আমি ও মোঃ জহুরুল হক আমাদের বস গোলাম বহলুলের সাথে গিয়ে পদোন্নতিপ্রাপ্ত পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুল আলমকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাই ও মিষ্টি খাই। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পদোন্নতির শুরুর দিনে তিনটি মিষ্টি খাওয়া হলো। সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত পরিচালক পদে ৪৫ জনের পদোন্নতির অর্ডার হয়, এক্সপেন্ডিচার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-২ এর দূর এ আফজা পদোন্নতি পেলে তাঁকে ফোন করে অভিনন্দন জানাই। আবু সাদাত মোঃ সায়েম, মোঃ মোকাদ্দাসুল আলম ও চট্টগ্রামের সাজ্জাদ হোসাইন চৌধুরীকে মেসেঞ্জারে অভিনন্দন জানাই। আজ (২০ নভেম্বর ২০২৫) সকালে পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক দূর এ আফজাকে ইএমডি-২ এর পক্ষ থেকে আমরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানাই। আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকে যুগ্ম পরিচালক পদে ২০৮ জন কর্মকর্তা পদোন্নতির অর্ডার হয়। এক্সপেন্ডিচার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-২ এর মোঃ রবিউল হোসেন ও মোঃ নাছির উদ্দিন পদোন্নতি পান, হোয়াটসঅ্যাপে তাঁদের অভিনন্দন জানাই। পনের দিন পর আজ ট্রেনে সিলেট যাই।
আজ সকালে টিভিতে শততম টেস্টে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের শতরান প্রত্যক্ষ করি। বাংলাদেশ ব্যাংক ডরমিটরির ডাইনিং হলে সকাল সাড়ে ৯ টার আগেই টিভি ছেড়ে অপেক্ষায় থাকি। মিরপুর স্টেডিয়ামে মুশফিকুর রহিমের বাবা মা, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ গ্যালারি ভর্তি দর্শকদের অপেক্ষা, প্রথম ওভার মেডেন, দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে মুশফিক ১ রান নিয়ে শতরান পূর্ণ করে শুরু হয় বাঁধ ভাঙা উল্লাস। ক্রিকেট বিশ্বে এখন পর্যন্ত এগারোজন ক্রিকেটার শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন, যার সর্বশেষ সদস্য হলেন বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিম। শততম টেস্টে মুশফিক দুই ইনিংসে ১০৬ ও *৫৩ রান করেন। ১৯৬৮ সালের ১১ জুলাই ইংল্যান্ডের কলিন কাউড্রে শততম টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরির ক্লাবে নাম লিখান। ইংল্যান্ডের অ্যালেক স্টুয়ার্ট ও জো রুট, অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং ও ডেভিড ওয়ার্নার, দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথ ও হাশিম আমলা, পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াঁদাদ ও ইনজামাম উল হক এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের গর্ডন গ্রিনিজ শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করেন। রিকি পন্টিং শততম টেস্টে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন, রুট ও ওয়ার্নার ডাবল সেঞ্চুরি করেন।
আজ (২১ নভেম্বর ২০২৫ শুক্রবার) সকাল ১০.৩৮ বাংলাদেশে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের তিব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৭। উৎপত্তি স্থল নরসিংদীর মাধবদী হওয়ায় ঢাকা ও নরসিংদীতে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়। সাপ্তাহিক ছুটির দিন সকালে বেশিরভাগ লোক বাসা বাড়িতে ছিলেন। ভূকম্পনের তীব্র ঝাঁকুনি জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে দশজন লোক মারা যান। তিন শতাধিক লোক আহত হন, অনেক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিলেটেও ভূকম্পনের বেশ ঝাঁকুনি হয়, ডাইনিং এ বসে প্রত্যক্ষ করি।
আজ রাইজিং স্টার এশিয়া কাপ ক্রিকেটে অনেক নাটকের পর সুপার ওভারে ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ ফাইনালে উঠেছে। আজ সারাদেশে যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনায় সশস্ত্রবাহিনী দিবস পালিত হয়।
আজ (২১ নভেম্বর ২০২৫) সকালে সিলেট নগরীতে নতুন চালু হওয়া ‘মেহমান রেস্টুরেন্ট’ থেকে সকালের নাস্তা কিনি। পরোটা ও তান্দুরি রুটি প্রতি পিস ১০ টাকা, ডালভাজি প্রতি হাফ ২০ টাকা, বিফ আখনি প্রতি হাফ ৯০ টাকা। আজ (২২ নভেম্বর ২০২৫) সকালে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেট এর আয়োজনে কেমুসাস সাহিত্য সম্মেলন – ২০২৫ এ অংশ নেই। রেজিস্টার্ড কবি সাহিত্যিকদের নিয়ে শেকড় সন্ধানী গবেষক অধ্যাপক মুহম্মদ আসাদ্দর আলীকে নিবেদন করে সাহিত্য সম্মেলনে কথা সাহিত্যিক সোলায়মান আহসান কে ষোড়শ কেমুসাস সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হয়। সকাল ১১টায় রেলি পূর্বে সাহিত্য সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কেমুসাস’র প্রাক্তন দু’জন সভাপতি মোঃ হারুনুজ্জামান চৌধুরী ও রাগীব হোসেন চৌধুরী।
সকাল সাড়ে ১১টায় শহীদ সোলেমান হলে শুরু হয় কবি সম্মেলন। সাহিত্য সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কবি কামাল তৈয়ব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদার। প্রথম পর্বে কবি সম্মেলনে কবি কন্ঠে কবিতা পাঠ উপভোগ করি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দেয়া হয় বরেণ্য কবি অধ্যক্ষ কালাম আজাদ, মোঃ হারুনুজ্জামান চৌধুরী, রাগীব হোসেন চৌধুরী, আফতাব চৌধুরী, অধ্যক্ষ আতাউর রহমান পীর, লিডিং ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. তাজ উদ্দিন, কেমুসাস সাধারণ সম্পাদক সেলিম আউয়াল, সঙ্গীত শিল্পী বিশিষ্ট চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জহিরুল ইসলাম অচিনপুরি, দৈনিক সিলেটের ডাক এর প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা সম্পাদক দেওয়ান তৌফিক মজিদ লায়েক, দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, ছয়ফুল আলম চৌধুরী হায়াত, আহমদ মাহবুব ফেরদৌস, কবি বাসিত ইবনে হাবিব, আবু সালেহ, কলামিস্ট শামসির হারুনুর রশিদ, বাচিক শিল্পী সালেহ আহমদ খসরু, সাইক্লোন সভাপতি মোয়াজ আফসার, সহ-সভাপতি কলামিস্ট বেলাল আহমদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ইশরাক জাহান জেলি, আলেয়া রহমান, রাহনামা শাব্বির চৌধুরী, সেনুয়ারা আক্তার চিনু, রোমানা আহমদ, এডিশনাল পিপি আব্দুল মুকিত অপি, ছড়াকার শাহাদাত বখত শাহেদ, কবি মুহিত চৌধুরী, মোশতাক চৌধুরী, বায়েজিদ মাহমুদ ফয়ছল, মিনহাজ ফয়সল, কবি মোঃ আব্দুল বাছিত প্রমুখের সাথে দেখা হয়। প্রবাসে থেকেও সাহিত্য সম্মেলনে রেজিস্ট্রেশন করেন সাইক্লোন সিলেট এর দু’জন প্রাক্তন সভাপতি হারান কান্তি সেন ও আব্দুস সাদেক লিপন, কার্ডের ছবি তোলে তাঁদের কাছে পাঠাই।
আজ দুপুরে কেমুসাসের শহীদ সোলেমান হলে বসে দুইশত টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা কবি সাহিত্যিকদের সাথে চিকেন বিরিয়ানি দিয়ে লাঞ্চ করি। দুপুরের বিরতির সময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে সকালে দেয়া কুপন নিয়ে খাবারের প্যাকেট সরবরাহ করা হয়। সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়ার ‘রাজা মোহাম্মদ ইসলাম ট্রাস্ট’র সৌজন্যে কেমুসাস সাহিত্য উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের সুন্দর একটি ব্যাগ উপহার দেয়া হয়। সিলেটের কবি সাহিত্যিকদের সাথে আজ আধা বেলা খুবই সুন্দর সময় কাটাই।
আজ (২৩ নভেম্বর ২০২৫) ছুটিতে থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট অফিসে যাই। আজ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যাশ ডিপার্টমেন্টে জনসাধারণের সেবাদান (প্রাইজবন্ড, সঞ্চয়পত্র, সরকারি চালান গ্রহণ, কয়েন বিনিময়, ছেঁড়া ফাটা নোট বদল) বন্ধ থাকায় লোক সমাগম নেই। জরুরি কাজে ডাক্তার উম্মে কুলসুম ম্যাডামের সাথে দেখা করি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক খালেদ আহমদ স্যারের কক্ষে যাই, একান্তে কথা বলি। ক্যাশ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক এটিএম হাবিবুল্লাহ’র সাথে দেখা করি। জোহরের নামাজ বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাঙ্গণ মসজিদে পড়লে সিলেট অফিসের অনেকের সাথে দেখা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের ইন্টার্নাল অডিট ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ মোজাম্মেল হকের সাথে দেখা হয়। মোজাম্মেল আমার এসএসসি চুরাশিয়ান সহপাঠী বন্ধু, সে সিলেট অফিসে অডিট কার্যক্রমে দলনেতা হিসেবে এসেছে। আজ বাংলাদেশ ব্যাংকে উপ-সহকারী পরিচালক থেকে সহকারী পরিচালক পদে ১২০ জন পদোন্নতি পান, যার মধ্যে সিলেট অফিসের ৪ জন। আজ (২৪ নভেম্বর ২০২৫) জোহরের নামাজ দরগাহে হযরত শাহজালাল (র.) মসজিদে পড়ি, দরগাহ অফিসে স্বজন দেওয়ান জহির উদ্দিন চৌধুরীর সাথে দেখা করি। তিনি সম্প্রতি পবিত্র ওমরাহ পালন করে এসেছেন। আজ বাংলাদেশ ব্যাংকে অতিরিক্ত পরিচালক (ক্যাশ) পদে ১৬ জন পদোন্নতি পান, তাঁরা সকলেই আমার ব্যাচমেট। এঁদের মধ্যে রণজিৎ চন্দ্র সরকার, মোঃ আব্দুস সবুর, মোঃ মুজিবুর রহমান -৯ ও মোঃ সিরাজুল ইসলাম (মতিঝিল অফিস), মোঃ কাইজার ই আলম এহতেশামুল হক (সদরঘাট অফিস, সতীশ চন্দ্র দাস ও সুব্রত দত্ত (সিলেট অফিস) আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আজ বিকালে আমেরিকা থেকে দেশে আসা ভগ্নিপতি মোঃ আব্দুল হান্নান ও ভাগ্নি কে দেখতে গাড়ি নিয়ে বের হই, সহধর্মিণী নুরজাহান পারভীন চৌধুরী ও ছোট মেয়ে সায়িমা হুমায়রা সাথে ছিলেন। খালাতো বোন আয়েশা চৌধুরী ফোনে বলেছিলেন বাড়িতে নতুন ডুপ্লেক্স ঘর বানানোর তাঁর স্বামী দেশে আসতে পারেন নি। বড় মেয়ে ফারজানা আক্তার জুমার সাথে শুধু বাড়িটি দেখার জন্য অসুস্থ শরীর নিয়ে তিনি দেশে আসছেন। আমরা মোগলবাজার থানার তুরুকখলা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখি বাপ বেটি বাড়িতে নেই, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে মেয়ের ফ্ল্যাটে আছেন। তুড়ুকখলায় দেখা হলো ভাগ্নে ওয়েছ এর সাথে, আসরের নামাজ এখানে পড়ি। আমরা গাড়ি নিয়ে সিলেট নগরী হয়ে এয়ারপোর্টের পাঁচ তারকা হোটেল গ্র্যান্ড সিলেট সংলগ্ন ভাগ্নির ফ্ল্যাটে যাই। পাশাপাশি তিনটি সুউচ্চ টাওয়ার, দুই রুম, দুই বাথরুম, মিনি কিচেন, ছোট ড্রইং ডাইনিং। ভগ্নিপতি মোঃ আব্দুল হান্নান ও ভাগ্নির সাথে বহুবছর পর দেখা হলো। তাঁরা আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসির সিয়াটলে থাকেন। ভগ্নিপতি মোঃ আব্দুল হান্নান আমেরিকায় যাবার আগে জার্মানি, ইরান, পাকিস্তানে কাজ করেন, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স ভ্রমণ করেছেন। মেয়ের সাথে দেশে এসে স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতজনদের দেখে খুবই খুশি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে ভগ্নিপতি মোঃ আব্দুল হান্নান এর বড় দুই ভাই মোঃ গোলাম রহমান (লন্ডনী) ও মরহুম মোঃ আব্দুল মন্নানও আমাদের ভগ্নিপতি, চাচাতো বোন সেবা আপা ও ফুফাতো বোন বেলা আপার স্বামী।দুইদিন সিলেটে ছুটি কাটিয়ে আজ রাতে বাসে ঢাকায় ছুটতে হবে। সন্ধ্যা সাতটায় ছোট মেয়েকে রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নামিয়ে দিয়ে বাসায় ফিরি। এমবিবিএস পঞ্চম বর্ষে পড়া মেয়ের হাসপাতালে ওয়ার্ড ভিজিট রয়েছে। হাসপাতাল গেটে আমরা শীতের ভাপা পিঠা (প্রতি পিস ১০ টাকা) খাই, ঘরের জন্যও কিনি। রাত সাড়ে এগারোটার ইউনিক পরিবহনে ঢাকার পথে রওনা দেই, সোমবার রাতে উপবন ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় অনেক দিন পর বাসে যাচ্ছি। ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ভোর ৫.৪০ ঢাকার টিটিপাড়া বিশ্বরোড জামে মসজিদে বাস থামিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করি, ইউনিক পরিবহনের বিশেষত্ব হলো গাড়ি থামিয়ে নামাজ পড়ানো। নামাজ শেষে ২/৩ মিনিটের মধ্যে টিটিপাড়া আন্ডারপাস পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ কমলাপুরে আমি নেমে যাই। দৃষ্টিনন্দন আন্ডারপাসের কয়েকটি ছবি তুলে পায়ে হেঁটে আরকে মিশন রোড বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ডরমিটরিতে পৌঁছি। আন্ডারপাসের উপর দিয়ে ঢাকার কমলাপুর থেকে খুলনা, নারায়ণগঞ্জের ট্রেনগুলো চলাচল করে, আন্ডারপাস দিয়ে গাড়ি বিশ্বরোড হয়ে নির্বিঘ্নে গন্তব্যে ছুটে।
আজ (২৫ নভেম্বর ২০২৫) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের এক্সপেন্ডিচার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-২ এর ইন হাউস ট্রেনিং প্রোগ্রাম উদ্বোধন করেন ও ক্লাস নেন নির্বাহী পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম স্যার। বিভাগের পরিচালক রেজিয়া খাতুন ম্যাডাম এসময় উপস্থিত ছিলেন। পাঁচ দিনের ইন হাউস ট্রেনিং প্রোগ্রামের আমি সমন্বয়কারির দায়িত্বে রয়েছি, সহকারী সমন্বয়কারী যুগ্ম পরিচালক মোঃ রবিউল হোসেন। আজ আরও ক্লাস নেন অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আমির হোসেন ও যুগ্ম পরিচালক এনামুল ইসলাম। বিভাগের ১৫ জন উপ-সহকারী পরিচালক ও সহকারী পরিচালক ইন হাউস ট্রেনিং এ অংশ নিচ্ছেন। পেশাগত উৎকর্ষতার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভাগসমূহ উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে বছরে ছয়বার ইন হাউস ট্রেনিং আয়োজন করতে পারে। চা বিরতির সময় ইএমডি -২ এর পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক দূর এ আফজা (মিতা) আমাদের মিষ্টান্নে আপ্যায়িত করেন। অতিরিক্ত পরিচালক একেএম গোলাম বহলুল ও মোঃ জহুরুল হক আজ আমার চেম্বারে আসেন। বহলুল বস কেন্টিনে গিয়ে লিকার চা পান করতে পছন্দ করেন, বাহিরের কোন খাবার তিনি খান না। আমাকে ও জহুরুল হককে ডাকেন, আমরা চায়ের সাথে সিঙ্গাড়া/সমুচা খাই।
আজ বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক সাফায়েত আরেফিন ও শামসুল আরেফিন স্যারদ্বয়কে হলুদ দলের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত ছিলাম। বাংলাদেশ ব্যাংক হলুদ দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি জেনারেল ও ঢাকা কোঅপারেটিভ এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকীর নেতৃত্বে হলুদ দলের নেতা কর্মীরা হিউম্যান রাইটস ডিপার্টমেন্ট -১ এর পরিচালক মোঃ জবদুল ইসলাম স্যারের কক্ষে গিয়ে তাঁদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এসময় হলুদ দলের সিনিয়র নেতা মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ক্লাব ঢাকার সভাপতি মোঃ জহুরুল হক, ঢাকা কোঅপারেটিভ এর সম্পাদক মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন, ভাইস-চেয়ারম্যান আবুল বাশার আব্দুল ওয়াহিদ খান, সহ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান তানিন ও আজহারুল ইসলাম, অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের নির্বাহী সদস্য শাহরিয়ার শামস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আজ বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংক জালালাবাদ কল্যাণ সমিতি ঢাকার উদ্যোগে ছয়জন সদস্যের পদোন্নতিতে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে অংশ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ তলা ভবনের লেভেল ২৪ এ সমিতির সভাপতি মোঃ নওশাদ মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার উপস্থিতিতে এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টের সভাকক্ষে পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক মাহমুদা খাতুন, অতিরিক্ত পরিচালক (ক্যাশ) মোঃ মুজিবুর রহমান-৯ ও মোঃ সিরাজুল ইসলাম এবং যুগ্ম পরিচালক অতন্দ্রিলা দাশ পিয়া, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মোঃ রেজাউল করিম কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এসময় অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আব্দুল হাফিজ, সঞ্জিত কুমার রায়, অর্চনা সাহা, বীরেন্দ্র চন্দ্র দাস, মোঃ হাবিবুর রহমান, যুগ্ম পরিচালক ফারহানা খানম চৌধুরী, শিউলি দত্ত, কাজী ফাতেমা ছবি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন, সকলকে মিষ্টান্নে আপ্যায়িত করা হয়।
আজ (২৬ নভেম্বর ২০২৫) ইএমডি -২ এর ডিরেক্টর ম্যাডামকে নিয়ে অফিসের জরুরি একটি কাজে বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার ম্যাডামের সাথে দেখা করি। পরে আমরা কারেন্সি অফিসার (নির্বাহী পরিচালক) আমিনুল ইসলাম আকন্দ স্যারের সাথে তাঁর চেম্বারে গিয়ে দেখা করি। সেখানে দেখা হয় অবসরপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক জিয়া উদ্দিন ও মোঃ আব্দুল মান্নান স্যারের সাথে।
আজ (২৭ নভেম্বর ২০২৫) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে আসেন অবসরপ্রাপ্ত ডিজিএম সৈয়দ তৈয়বুর রহমান স্যার। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ অফিসে কাজ করেন। তাঁর সিলেট নগরীতে নিজস্ব ফ্ল্যাট রয়েছে, এখন ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বড় মেয়ে চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ (সহকারী অধ্যাপক) ডাঃ রেবেকা সুলতানা ও জামাতা বিশিষ্ট চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ (রেটিনা) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডাঃ বিল্লাল হোসেনের বাসায় বেশি সময় থাকেন। সৈয়দ তৈয়বুর রহমান ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট অফিসে জিয়া পরিষদ গঠন করেন, তিনি প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ছিলেন। আমি সে কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ছিলাম। আজ সকালে আমার কক্ষে চা পান করে সৈয়দ তৈয়বুর রহমান স্যারকে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাননীয় ডেপুটি গভর্নর মোঃ জাকির হোসেন চৌধুরী স্যারের কক্ষে যাই, দেখা করি। নির্বাহী পরিচালক নিয়ামুল কবির স্যারের সাথে দেখা হয়। তৈয়বুর স্যারের সাথে আমার কক্ষে এসে দেখা করেন অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ রুহুল আমিন চৌধুরী, তানভীর হোসাইন শুভ, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। চা চক্রের সময় সিলেট অফিসের পুরনো দিনের অনেক স্মৃতি রোমন্থন হলো।
আজ বিকালে বহলুল বস ফোন করে ডেকে নিয়ে আমাকে কক্সবাজারে একটি বিয়েতে যাওয়ার বিশাল আকারের নিমন্ত্রণ পত্র ধরিয়ে দেন, বললেন তিনি ও হক সাহেব যাবেন, আমাকেও যেতে হবে। পরে তাঁর সাথে ক্রেডিট গ্যারান্টি ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হক কিরন স্যার ও এইচআরডির অতিরিক্ত পরিচালক এটিএম কামরুল কবির ভূঁঞা স্যারের চেম্বারে যাই, দু’জনই বসের ব্যাচমেট। শুক্রবার ও শনিবার ঢাকায় থাকব, সরকারি ছুটির দু’দিন কিভাবে কাটানো যায় প্রিয় সহকর্মী জহুরুল হকের সাথে খসড়া পরিকল্পনা করি। আজ সিলেটে ব্যস্ত সময় পার করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মাননীয় গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি নিবাসে বৃক্ষরোপন, সিলেট অফিসে কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময়, একটি অভিজাত হোটেলে ব্যাংকার্স ক্লাব সিলেট এর সংবর্ধনা ও নৈশভোজে অংশ নেন। সফরকালে গভর্নর মহোদয় সিলেট শাহজালাল উপশহর বাংলাদেশ ব্যাংক নিবাসের নির্বাহী পরিচালকের ভবনে রাত্রিযাপন করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক বিষ্ণু পদ কর স্যার আজ কর্মদিবস শেষে পিআরএল চলে গেলেন। স্যারের বাড়ি খুলনায়, খুবই ভালো মনের মানুষ, একজন উঁচুমানের সঙ্গীত শিল্পী। আজ রাতে মতিঝিল আরকে মিশন রোড বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ডরমিটরির চারতলায় আমরা তিন রুমে তিনজন রয়েছি, সবাই চলে গেছে বাড়িতে, শুনশান নিরব পরিবেশ। রাত দশটায় ছাদে হাঁটার শব্দ শুনে ইকবাল হাসান (কক্ষ নম্বর ৪০৮) আসেন আমার কক্ষে, ভয়ার্ত কন্ঠে বললেন ছাদে কে যেন শব্দ করে হাঁটছে। আমরা দু’জন ছাদে গিয়ে দেখি মুহম্মদ নূরুল আমিন (কক্ষ নম্বর ৪০৫) হাঁটছেন। ইকবাল হাসান বললেন রাতে ছাদে একা হাঁটা নিরাপদ নয়। আরকে মিশন রোড বাংলাদেশ ব্যাংক নিবাস এখন পরিত্যক্ত ভবন, সবকটি বাসা খালি, নিবাসে বিরাট বিরাট গাছ, পাখিদের অভয়ারণ্য, অনেকটা ভূতুড়ে পরিবেশ। ইকবাল আরও বললেন ডরমিটরিতে ভৌতিক অনেক কিছু তিনি দেখেছেন, আব্দুল হাফিজও দেখেছেন। ক্যাটিরিং এ্যাসিস্ট্যান্ট শরীফা খালা ও ক্লিনার সেলিম মিয়া ডরমিটরিতে ভৌতিক কিছু বিষয় টের পেয়েছেন বলে নানান সময় কথা বলেছেন। রাতে ডাইনিং টেবিলে মাল্টা খেতে খেতে আমরা তিনজন (মুহম্মদ নূরুল আমিন, মোঃ ইকবাল হাসান ও আমি) এসব আলোচনা করায় ভয়ে রাতে আমি বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালিয়ে ঘুমিয়েছি।
আজ (২৮ নভেম্বর ২০২৫) শুক্রবার ঢাকায় অফিসার্স ডরমিটরিতে ঘুমিয়ে অলস সময় কাটে। রমনা পার্কে হেঁটে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্লাব ঢাকার সভাপতি মোঃ জহুরুল হক সকাল সাড়ে ১১টায় ডরমিটরিতে আমার কক্ষে আসেন। আমি দ্রুত বিছানা ছেড়ে ওঠে তাঁকে আপ্যায়ন করি। আমার কক্ষের মালামাল সবসময়ই অগোছালো থাকে, রুমমেট মোঃ সাইফুল আলমের নিত্যদিন অভিযোগ করেন। জহুরুল হক আধা ঘন্টা অবস্থান করে নিজ হাতে সবকিছু ঠিক করে দেন, এর আগেও ঠিক করেছিলেন, বেশিদিন থাকেনি। লজ্জায় আমি দ্রুত বিছানা গুছিয়ে নেই। জুমার নামাজ আরকে মিশন রোড বাংলাদেশ ব্যাংক নিবাস জামে মসজিদে পড়ি, দুপুরে রোকেয়া খালা বিফ কারি পরিবেশন করেন, এটা তাঁর শুক্রবারের স্পেশাল মেন্যু।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (২৯ নভেম্বর ২০২৫) শনিবার সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত আমরা ( মোঃ ইকবাল হাসান, মোঃ জহুরুল হক ও আমি) পায়ে হেঁটে, ট্রেন, লঞ্চ ও বাসে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ শহর ঘুরে আসি। সাত ঘণ্টার আনন্দময় সফর করতে আমাদের সর্বসাকুল্যে ব্যয় হয় এক হাজার বিশ টাকা।
শনিবার সকালে মতিঝিল আরকে মিশন রোড বাংলাদেশ ব্যাংক নিবাস জামে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে প্রস্তুতি নিয়ে আমরা (মোঃ ইকবাল হাসান ও আমি) পায়ে হেঁটে টিটি পাড়া আন্ডারপাস হয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের শহরতলী প্ল্যাটফর্মে যাই। নারায়ণগঞ্জের কমিউটার ট্রেনের তিনটি টিকিট (প্রতি টিকিট বিশ টাকা) কিনে প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষায় ছিলেন আরেক সহযাত্রী বাংলাদেশ ব্যাংক ক্লাব ঢাকার সভাপতি মোঃ জহুরুল হক। নির্ধারিত সময়ে (সকাল ৬.৫৫) ট্রেন কমলাপুর ছেড়ে যায়। এটা ছিল নারায়নগঞ্জগামি দিনের দ্বিতীয় কমিউটার ট্রেন। প্রতিদিন মোট ৮টি কমিউটার ট্রেন কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ যায়, আবার ফিরে আসে। প্রথমটি যায় ভোর সাড়ে চারটায়, শেষটা যায় রাত ৯.৫৫। কমলাপুর থেকে ছেড়ে গেন্ডারিয়া, শ্যামপুর, পাগলা, ফতুল্লা ও চাষাড়ায় স্টপিজ দিয়ে ৪৫ মিনিটে ট্রেন নারায়ণগঞ্জ পৌঁছে। ট্রেনে পাশে বসা ক্ষুদে সহযাত্রী গেন্ডারিয়া দারুল আরকাম মাদ্রাসার ছাত্র মোঃ জুবায়ের আহমদ আমাকে স্টেশনের নামগুলো শিখিয়ে দেয়। জুবায়ের গেন্ডারিয়া থেকে খালার সাথে ফতুল্লা যাচ্ছে।
আমরা সকাল ৭.৪০ নারায়ণগঞ্জ নেমে হেঁটে হেঁটে নারায়ণগঞ্জ সিটি পার্কে যাই। ট্রেন স্টেশনের অতি কাছে নারায়ণগঞ্জ – ঢাকার বাস স্ট্যান্ড ও বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর অবস্থিত। নারায়নগঞ্জ সিটিতে অনেক দিন পরে এসে প্রভুত উন্নয়ন চোখে পড়ে। সংক্ষিপ্ত অবস্থানকালে নগরীতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য ‘ফিরে দেখা ৭১’, আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তন ( আলী আহাম্মদ চুনকা নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান, জন্ম : ১৬.১২.১৯৩৪, মৃত্যু: ২৫.২.১৯৮৪), ভাষা সৈনিক মমতাজ বেগম সড়কে মর্গ্যান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ (স্থাপিত: ১৯১০), দেওভোগ বড় জামে মসজিদ, মিষ্টিমুখ, নিউ রসরাজ মিষ্টিমুখ, জাতীয় মিষ্টান্ন ভান্ডার আমাদের চোখে পড়ে। নারায়ণগঞ্জ সিটি পার্ক যেন একটি আদর্শ ফিটনেসের জায়গা। নানান বয়সের নারী পুরুষ হাঁটছেন, নির্ধারিত খোলা জায়গায় ইন্সট্রুমেন্টে জগিং করছেন। রয়েছে আলাদা জিম সেন্টার। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এটি নির্মাণ করেছে ও পরিচালনা করছে। পার্কে ঘন্টাখানেক হাঁটার পর আমরা শহীদ সোহরাওয়ার্দী সড়কের ব্রাম্ম মন্দির মার্কেটের আনন্দ রেস্তোরাঁয় সকালের নাস্তা করি, এ রেস্তোরাঁয় গরুর মাংস রান্না হয় না।
নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের মদনগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে যাত্রি নামিয়ে চল্লিশ মিমিটে পৌনে ১০টায় মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে পৌঁছে যাই। লঞ্চে আমাদের সহযাত্রী ছিলেন জনৈক মোঃ জাহাঙ্গীর, তাঁর বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। পঞ্চাশোর্ধ জাহাঙ্গীরকে ছবি তুলে দিতে অনুরোধ করলে তিনি পারেন না, কোনদিন তুলেন নি জানান। আমি তাঁকে কয়েক সেকেন্ড ছবি তোলার প্রশিক্ষণ দিয়ে হাতে ক্যামেরা দিয়ে বললাম যতক্ষণ ছবি তোলায় হাত পাকা না হবে ততক্ষণ আমাদের ছবি তুলতে থাকেন। জাহাঙ্গীর কয়েক মিনিটে পাকা ফটোগ্রাফার হয়ে আমাদের বিভিন্ন ভঙ্গিমা করার নির্দেশনা দিয়ে ছবি তুললেন। আমি নতুন ফটোগ্রাফার জাহাঙ্গীর’র কয়েকটি ছবি তুলে তাঁকে দেখালাম, দেয়ার জন্য স্মার্টফোনের নম্বর চাইলে তিনি বললেন লাগবে না, ছবি তুলতে পেরেই খুশী, বাড়িতে একটি বাটন ফোন আছে। নৌ ভ্রমণের সময় নদীর দু’পাশে গড়ে ওঠা ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান (সামিট পাওয়ার, শাহ সিমেন্ট, বসুন্ধরা সিমেন্টসহ অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান) চোখে পড়ে, সোনাকান্দা বন্দরে বড় বড় জাহাজ মেরামত চলছিল, শীতলক্ষা, মেঘনা নদী হয়ে ধলেশ্বরী নদীর ওপর বিশাল মুক্তারপুর সেতুর নিচ দিয়ে লঞ্চ গিয়ে মুন্সীগঞ্জ ঘাটে নোঙর করে।
মুন্সীগঞ্জ শহরের আল্লাহু চত্বর, শহিদ চত্বর, সদর হাসপাতাল এলাকা, হাটলক্ষীগঞ্জ শাহী জামে মসজিদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, মুন্সীগঞ্জ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পানি ভবন), বাস স্ট্যান্ড, গণপূর্ত কমপ্লেক্স, মুন্সীগঞ্জ, সদর হাসপাতাল রোডে আসলাম সুইটস এন্ড বেকারী, বৌয়া – ভাত হোটেল ঘুরে দেখি। বৌয়া ভাত মুন্সীগঞ্জের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। চালের খুদি দিয়ে রান্না পোলাও কে বৌয়া ভাত বলে। শীতের সময় নানান রকমের ভর্তা দিয়ে এটা খেতে খুব স্বাদ লাগে। মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতাল রোডের বৌয়া – ভাত হোটেলে ভর্তা সহ প্রতি হাফ বৌয়া ভাতের দাম চেয়েছে চল্লিশ টাকা। মুন্সীগঞ্জ জেলা মিষ্টির জন্য বিখ্যাত, শহরে আমরা অতি পুরনো একটি মিষ্টির দোকানে গিয়ে আমরা নতুন বানানো দুই ধরনের রসগোল্লা নেই। প্রতি পিস ৩৫ টাকা, তিনজনে দুইশত দশ টাকার খুবই সুস্বাদু মিষ্টি খেয়ে নারায়ণগঞ্জ ফেরার জন্য ধলেশ্বরী নদীর পাড়ে মুন্সীগঞ্জ নদী বন্দরে চলে এলাম, গোটা শহর আমরা পায়ে হেঁটে চলাচল করি। লঞ্চ ঘাটের বাহিরে পাবলিক টয়লেট রয়েছে, পাঁচ টাকা দিয়ে ব্যবহার করা যায়, মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে প্রবেশ করতে পাঁচ টাকার টিকিট কিনতে হয়। সকাল ১১.২০ আমাদের লঞ্চ ‘রজেল এক্সপ্রেস মেসার্স ইসলাম ওয়াটার ওয়েজ এম-১০৩৪৯ মুন্সীগঞ্জ ছেড়ে দুপুর ১২ টায় নারায়ণগঞ্জ বন্দরে নোঙর করে। আমরা পায়ে হেঁটে পাশ্ববর্তী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে জানতে পারি ঢাকাগামী কমিউটার ট্রেন বেলা ১.৩৫ ছাড়বে। ভোর থেকে চলমান থাকায় আমাদের ঢাকায় দ্রুত ফেরার তাড়না, বাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নেই। ঢাকা – নারায়ণগঞ্জ রুটে বন্ধন ও উৎসব নামের দুটি গেটলক বাস রয়েছে, ভাড়া জনপ্রতি ৫০ টাকা। আমরা ২ নম্বর রেল গেইট থেকে প্রায় খালি উৎসব পরিবহনে উঠে বসি, ৬ জন যাত্রী নিয়ে বাস যাত্রা শুরু করে। চাষাড়া ও শিবু মার্কেট (নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড) এ উৎসব এর নির্ধারিত কাউন্টার থেকে যাত্রিরা উঠলে গাড়ি পূর্ণ হয়ে যায়। গুলিস্তানে হানিফ ফ্লাইওভারের শেষ প্রান্তে নেমে ব্যাটারির রিকশায় চল্লিশ টাকা ভাড়ায় বেলা একটায় মতিঝিল আরকে মিশন রোড বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ডরমিটরিতে এসে পৌঁছলে শেষ হয় অফিস ছুটির দিনে সাত ঘন্টার আনন্দময় জার্নির। তিনজনের এজন্য ব্যয় হয় সর্বসাকুল্যে এক হাজার বিশ টাকা।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া রূপ লাবণ্যের অতি সামান্য হলেও আমরা আজ স্বাদ নিলাম। নিজেদের জানাকে সমৃদ্ধ করতে, শরীর মনকে সুস্থ রাখতে ভ্রমণের কোন বিকল্প নেই। আর একটি কথা বলা আবশ্যক আমাদের ভ্রমণ সবসময়ই সাশ্রয়ী হয়ে থাকে অর্থাৎ কম খরচে বেশি উপভোগ করার বিষয় গুরুত্ব দেয়া হয়। আজ টি-২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা করেছে।
আজ (৩০ নভেম্বর ২০২৫) ঢাকায় আমার জন্য বিশেষ দিন ছিল। আজ দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ফ্লোরের বোর্ড রুমে মাননীয় গভর্নর মহোদয়ের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সভা চলাকালে অফিসিয়াল কাজে আমার সভা কক্ষে প্রবেশের সুযোগ হয়েছিল। পরিচালনা পর্ষদে আজকের সভায় আমাদের এক্সপেন্ডিচার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-২ এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচ্যসূচিতে থাকায় বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে আমার ও যুগ্ম পরিচালক এনামুল ইসলাম ডকুমেন্টসহ বোর্ড রুমের পাশের কক্ষে আগে থেকেই অপেক্ষমান থাকি। সচিব বিভাগের পক্ষ থেকে আমাদের চা নাস্তা করানো হয়। নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই আমরা দুজনকে বোর্ড রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। আমাদের বিভাগের মেমো সম্পর্কে ডেপুটি গভর্নর জনাব নুরুন নাহার সামগ্রিক বিষয় তুলে ধরেন। পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত সদস্যরা নানা প্রশ্ন করলে ডেপুটি গভর্নর ম্যাডাম সুন্দরভাবে উত্তর দেন। আলোচনার পর আমাদের মেমো পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা অনুমোদন দেন। আমরা ফাইল নিয়ে পিছনের চেয়ারে বসে থাকি, কোন কথা বলতে হয় নি। বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টরের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আজ পরিচালনা পর্ষদের সভায় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. মোঃ খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মোঃ আব্দুর রহমান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমির, শিল্পোদ্যোক্তা ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট আফতাব কামরুল এন্ড কোং এর প্রধান অংশীদার একেএম আফতাবনগর উল ইসলাম এফসিএ, ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপ (ইআরপি) বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদ জহির উপস্থিতি ও মূল্যবান আলোচনা শুনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, ড. মোঃ হাবিবুর রহমান, মোঃ জাকির হোসেন চৌধুরী ও মোঃ কবির আহাম্মদ পিএইচডি, বোর্ড সচিব নির্বাহী পরিচালক মনোজ কুমার হাওলাদার স্যার উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের জন্য বোর্ড সভায় উপস্থিতি স্বাভাবিক বিষয় হলেও শাখা অফিস হতে বদলী হয়ে প্রধান কার্যালয়ে এসে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সভা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ ছিল আমার জন্য অভাবনীয়।
আজ বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের এক্সপেন্ডিচার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-২ এর মাসিক সভায় অংশ নেই, সভা শেষে বিভাগের উপ-সহকারী পরিচালক জেসমিন আক্তারের বদলি উপলক্ষে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। আজ বিকালে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে অতিরিক্ত পরিচালক একেএম গোলাম বহলুল বসের চেম্বারে জুনিয়র সহকর্মী মীর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম (হিমু)’র বিয়েতে কক্সবাজার যাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। তরিকুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে, সিলেটে সে বাগবাড়িতে আমার বাসার কাছে বসবাস করে। সন্ধ্যায় ঢাকা কোঅপারেটিভ এর সম্পাদক মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন এর সাথে তাঁর চেম্বারে একটি জরুরী বৈঠক হয়। রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি অফিসার (নির্বাহী পরিচালক) আমিনুল ইসলাম আকন্দ স্যারের সাথে তাঁর চেম্বারে আমি ও মোঃ ইকবাল হাসান দেখা করি। স্যার আজ কর্মদিবস শেষে অবসর উত্তর ছুটিতে গমন করেন।